Tuesday, January 17, 2017

প্রচারপত্র বিলি করা দুই নারীর পরিচয় মিলেছে

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজে মুখ ঢেকে প্রচারপত্র বিলি করা দুই নারীর পরিচয় মিলেছে। সিসিটিভির ফুটেজে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজন এই কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও অপরজন আইডিয়াল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তবে তারা দু’জনই গা ঢাকা দিয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে এরা। রহস্য উদঘাটনে ও তাদের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনী।
ইশ্বরগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজের ধারণ করা সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, বোরকা পরা ও মুখঢাকা দুই নারী বিদ্যালয় কক্ষে দ্রুতগতিতে লিফলেট বিতরণ করছে। শিক্ষার্থীদের বইয়ের ভেতর ও ব্যাগের নিচে লিফলেট রাখছে তারা। লিফলেট বিতরণের কাজটি করছে তড়িঘড়ি করে। বিতরণ করা ওই লিফলেটে বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর ওপর নির্যাতনের কথা লেখা রয়েছে। আছে সরকারবিরোধী বক্তব্য। সেই সঙ্গে মুক্তি লাভে, আইন-কানুন, রাজনীতিসহ সব বিষয়ে ইসলামের বিধান অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান। প্রচারপত্রের নিচে লেখা রয়েছে আবহ ফাউন্ডেশন। জানা গেছে, ওই দুই ছাত্রীর বাড়ি মঘটুলা ইউনিয়নের বৈরাটি গ্রামে। এদের মধ্যে একজন ঈশ্বরগঞ্জ আইডিয়াল কলেজের ছাত্রী মারিয়া সুলতানা। তার বাবা সাটিহারি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক শহীদুল্লাহ। অপরজন ঈশ্বরগঞ্জ মহিলা কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী শরিফা আক্তার। তার বাবার নাম আবুল কালাম। রোববার রাত থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ দফায় দফায় দুই ছাত্রীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েও তাদের হদিস পায়নি। সোমবার মারিয়া সুলতানার বাবা শহিদুল্লাহর সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি জানান, শনিবার মারিয়া কলেজে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরে। পরদিন সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। আর বাড়ি ফেরেনি। শরিফার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, শনিবার বিকালে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরে শরিফা। পরে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
এরপর থেকে তার হদিস নেই। স্থানীয়দের ধারণা, তারা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে দল ভারি করতে প্রচারপত্র বিলি করছে। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মহিরদ্দিন তালুকদার জানান, তার নেতৃত্বে কলেজ পরিচালনা কমিটির অনুসন্ধানী টিম রোববার রাতে ওই দুই ছাত্রীর বাড়িতে যায়। কিন্তু তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিমা রানী সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশকে নির্দেশ দেন। রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছাত্রীদের সন্ধানে বৈরাটি গ্রামে পুলিশ অবস্থান করছে। শনিবার ঈশ্বরগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজ মাঠে শিক্ষার্থীরা সবাই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। তখন বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে নবম শ্রেণীতে ঢুকে পড়ে মুখঢাকা দুই নারী। ১১টা ৫৮ মিনিটে প্রচারপত্র বিলি শেষে তারা দ্রুত কলেজ থেকে বেরিয়ে যায়। এ ঘটনার পর শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে তোলপাড় শুরু হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান চালিয়ে এর কোনো কূলকিনারা পায়নি। পরদিন কলেজ অধ্যক্ষ মহির উদ্দিন তালুকদার থানায় একটি জিডি করেন।

No comments:

Post a Comment