যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান কৌশলগত উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন সে
দেশের গণমাধ্যমের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দ্য
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ডেমোক্রেট নয়, গণমাধ্যমই
বিরোধী দল। গণমাধ্যমের উচিত মুখ বন্ধ রাখা।’ বিবিসির খবরে বলা হয়,
টেলিফোনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পবিরোধী বিভিন্ন খবর পরিবেশনের কথা
উল্লেখ করে ঝাল ঝাড়েন তিনি। ব্যানন বলেন, গণমাধ্যমের লজ্জিত হওয়া উচিত।
গণমাধ্যম এ দেশকে বুঝতে পারে না। তারা এখনও বোঝে না কেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। ব্যানন বলেন, ‘তাদের মুখ বন্ধ রাখতে
হবে এবং কিছু সময়ের জন্য শুধু শুনতে হবে।’ মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস
ও ওয়াশিংটন পোস্ট এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয় ঠেকাতে ‘বিশেষ প্রভাব
বিস্তারের’ চেষ্টা করেছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, প্রতিষ্ঠান দুটি
তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়। টেলিফোনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে
ব্যানন আরও বলেন, গণমাধ্যমের সততা,
বুদ্ধিমত্তা শূন্য। সাংবাদিকরা কঠোর
পরিশ্রম করেন না। গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত ব্যানন ডানপন্থী নিউজ ওয়েবসাইট
ব্রেইটবার্টের প্রধান ছিলেন। পরে তিনি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের প্রধান
নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেন। গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগ
পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই মার্কিন
গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বেশ সরব ট্রাম্প। অভিযোগ তুলেছিলেন নির্বাচনে অবৈধ
প্রভাব বিস্তারের। শপথ নেয়ার পর প্রথম কর্মদিবসেও সংবাদমাধ্যমকে একহাত
নিয়েছিলেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের
বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে অভিযোগ তোলেন। সাংবাদিকরা পৃথিবীর সবচেয়ে ‘অসৎ
মানুষদের’ শ্রেণীভুক্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি। শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিকদের
পদত্যাগের হিড়িক : প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পর
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগের হিড়িক লেগেছে। ট্রাম্পের দায়িত্ব
গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই দেশটির শীর্ষ কূটনীতিক ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের
অনেকেই পদত্যাগ করেছেন। এ গণপদত্যাগ হবু পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে
চাপে ফেলেছে। মার্কিন সিনেটে সাবেক এ ব্যবসায়ীর পদ এখনও নিশ্চিত হয়নি। এরই
মধ্যে এ গণপদত্যাগ তাকে আরও সমস্যায় ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিবিসির খবরে
বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের পদত্যাগের মিছিলে থাকা শীর্ষ
কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রশাসনিক পদের আন্ডারসেক্রেটারি প্যাট্রিক
কেনেডি, দু’জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জয়েস বার ও মিশেল বন্ড। এছাড়া
বৈদেশিক কূটনৈতিক বিভাগের পরিচালক জেন্ট্রি স্মিথও পদত্যাগপত্র জমা
দিয়েছেন।
আরও অনেক কর্মকর্তা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এর আগে ট্রাম্পের
ক্ষমতা গ্রহণের দিনই পদত্যাগ করেছিলেন কূটনৈতিক বিভাগের সচিব (সেক্রেটারি
অব স্টেট ফর ডিপ্লোম্যাসি) গ্রেগরি স্টার ও বৈদেশিক কূটনৈতিক বিভাগের
(ডিরেক্টর অব ওভারসিজ বিল্ডিং অপারেশন) পরিচালক লিডিয়া মুনিজ। ওয়াশিংটন
পোস্টের খবরে বলা হয়, টিলারসন দায়িত্ব নিলে তার ডেপুটি (প্রধান সহকারী)
হতেন প্যাট্রিক কেনেডিই। তিনি প্রেসিডেন্টের পালাবদলের সময়ও সক্রিয়ভাবে
দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু বুধবার হঠাৎই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর
অনেকেই অবাক হয়েছেন। একে একে প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পদত্যাগে
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এখন অনেকটাই ফাঁকা। এ ‘জটিল’ পদগুলোয়
নতুনভাবে নিয়োগ দেয়াও কঠিন হবে বলে মনে করছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব
ডেভিড ওয়েন। ট্রাম্প-পুতিনের প্রথম ফোনালাপ আজ : যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথমবারের মতো কথা বলতে চলেছেন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভাদিমির পুতিন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা তাস এ
খবর দিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের বরাতে এতে বলা হয়েছে,
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভাদিমির পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ (শনিবার) প্রথমবারের মতো ফোনে কথা বলবেন বলে আশা করা
হচ্ছে। এর আগে ক্রেমলিন জানিয়েছিল, এ দুই নেতার মধ্যে আলাপের ব্যাপারে
তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের সম্পর্ক নিয়ে
জল্পনাকল্পনা চলছে বহুদিন থেকেই। ট্রাম্প তার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে
পুতিনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। পুতিনও তার প্রশংসা করেছেন। ট্রাম্পের
জয়ে পুতিনের ভূমিকা ছিল বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা
সংস্থাগুলো।

No comments:
Post a Comment