সাত
খুন মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রায় দ্রুত কার্যকর চেয়েছেন নিহত
প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি, অ্যাডভোকেট চন্দন
সরকারের মেয়ে ডা. সুস্মিতা সরকার ও চন্দন সরকারের গাড়ির ড্রাইভার
ইব্রাহিমের পরিবার। স্টাফ রিপোর্টার, সোনারগাঁ এবং নারায়ণগঞ্জ ও বন্দর
প্রতিনিধির পাঠানো খবর- সুস্মিতা সরকার : রায় ঘোষণার পর বাবার স্মৃতি মনে
করে নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলছিলেন ডা. সুস্মিতা সরকার। কাছে যেতেই ধন্যবাদ
দিলেন যুগান্তরসহ অন্য গণমাধ্যমকে। বলেন, রায়ে আমি ও আমার পরিবার সন্তুষ্ট।
আমার বাবা সারাজীবন ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করেছেন। আজকে তার আত্মা শান্তি
পাবে। আমরা খুশি হয়েছি তবে শান্তি পাব রায় কার্যকর হলে। তিনি আরও বলেন,
বর্তমান সমাজে এমন কেউ আছেন কিনা জানি না, যিনি নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে
অচেনা লোককে বাঁচাবেন। সদা অল্পভাষী নীরব প্রকৃতির আমার বাবা ওই
মানুষগুলোকে অপহরণ করতে দেখে তিনি সেখানে নির্ভয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। অন্য
কেউ হলে হয়তো নীরবে চলে আসত। বাবার এ বীরত্বের জন্য গর্ববোধ করি। তিনি আরও
বলেন, আমার বাবা যখন মারা যান তখন আমার পরীক্ষা ছিল। আমি একা একা পরীক্ষা
দিতে গিয়েছি, আমাকে কেউ দিয়ে যায়নি, নিয়েও আসেনি। আমার ছোট বোনকে খুব আদর
করতেন বাবা। ও এখনও বিশ্বাস করে বাবা ফিরে আসবেন। সুস্মিতা বলেন, উচ্চ
আদালতের প্রতিও আমাদের বিশ্বাস আছে, রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয় এটাই এখন
আমাদের প্রত্যাশা।
সেলিনা ইসলাম বিউটি :
নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। যে যতটুকু অপরাধ করেছে
তার সে পরিমাণই শাস্তি হয়েছে। আমরা চাই রায়টা যাতে উচ্চ আদালতেও বহাল থাকে
এবং দ্রুত কার্যকর হয়। এছাড়া যেসব আসামি পলাতক রয়েছে তাদের দ্রুত
গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তিনিও স্বজন হারানোর ব্যথা বোঝেন। স্বামীকে হারিয়ে আমি যে অসহনীয় কষ্ট ও
দুঃখের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে কিছুটা হলেও সেই কষ্ট
ভোলার চেষ্টা করতে পারব। তিনি আরও বলেন, মামলা চলমান অবস্থায় আমার ওপর
প্রচণ্ড চাপ ছিল, বাধা এসেছে অনেক, এখনও হুমকি, শঙ্কা তো আছেই। নূর হোসেনের
সহযোগীরা এখনও এলাকায় রয়েছে। আমাকে কিছুদিন আগেও চিঠির মাধ্যমে প্রাণনাশের
হুমকি দিয়েছে। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল। এছাড়া আমাদের
স্বজনদের বিরুদ্ধে, নিহত তাজুলের স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।
আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য দখল করে নেয়া হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত রায় কার্যকর না
হয় ততদিন পর্যন্ত আমরা আতংকে আছি।
ড্রাইভার ইব্রাহিমের পরিবার : সাত খুনের ঘটনায় অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের গাড়িচালক নিহত ইব্রাহিমের পরিবার পথে বসে গেছে। অভাবের তাড়নায় ৪ সন্তানকে এতিমখানায় ভর্তি করা হয়েছে। ইব্রাহিমের দুই স্ত্রী এক সময় ঘরের কাজ করলেও এখন তারা দর্জি। এছাড়া ঘরে রয়েছে অক্ষম বৃদ্ধ বাবা ও মা। ৯ সদস্যের এই পরিবারে বিরাজ করছে চরম অভাব-অনটন। সোমবার সকাল থেকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কাকডাকা ভোরেই আদালত প্রাঙ্গণে হাজির হন ইব্রাহিমের দুই স্ত্রী হনুফা ও মাহমুদা, বাবা আবদুল ওহাব, মা নূরজাহান, বড় ছেলে দশম শ্রেণীর ছাত্র রনি, মেয়ে শিমু, মারিয়া, মার্জিয়া, ছেলে জুনায়েদ। ইব্রাহিমের বড় ছেলে রনি বলেন, ‘বাবা বেঁচে থাকতে তিনিই ছিলেন আমাদের একমাত্র আয়ের পথ। আমার বাবা দুই বিয়ে করেছেন। দুই মাই এখন দর্জির কাজ করছেন। আমি ঘরের বড় সন্তান, কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না। তবে হত্যাকারীদের ফাঁসির রায়ে আনন্দিত হয়েছি।’ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে নিহত ইব্রাহিমের প্রথম পক্ষের স্ত্রী মাহমুদা বলেন, ‘আমার স্বামীরে যারা খুন করছে, তাগো সবার ফাঁসির রায় হওয়ায় আমি সন্তুষ্ট। বিশেষ করে র্যাবের কর্মকর্তাগো ফাঁসির আদেশ দেয়ায় আমি সবচাইতে বেশি খুশি হইছি। এহন শুধু রায় কার্যকরের অপেক্ষার পালা।’
ড্রাইভার ইব্রাহিমের পরিবার : সাত খুনের ঘটনায় অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের গাড়িচালক নিহত ইব্রাহিমের পরিবার পথে বসে গেছে। অভাবের তাড়নায় ৪ সন্তানকে এতিমখানায় ভর্তি করা হয়েছে। ইব্রাহিমের দুই স্ত্রী এক সময় ঘরের কাজ করলেও এখন তারা দর্জি। এছাড়া ঘরে রয়েছে অক্ষম বৃদ্ধ বাবা ও মা। ৯ সদস্যের এই পরিবারে বিরাজ করছে চরম অভাব-অনটন। সোমবার সকাল থেকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কাকডাকা ভোরেই আদালত প্রাঙ্গণে হাজির হন ইব্রাহিমের দুই স্ত্রী হনুফা ও মাহমুদা, বাবা আবদুল ওহাব, মা নূরজাহান, বড় ছেলে দশম শ্রেণীর ছাত্র রনি, মেয়ে শিমু, মারিয়া, মার্জিয়া, ছেলে জুনায়েদ। ইব্রাহিমের বড় ছেলে রনি বলেন, ‘বাবা বেঁচে থাকতে তিনিই ছিলেন আমাদের একমাত্র আয়ের পথ। আমার বাবা দুই বিয়ে করেছেন। দুই মাই এখন দর্জির কাজ করছেন। আমি ঘরের বড় সন্তান, কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না। তবে হত্যাকারীদের ফাঁসির রায়ে আনন্দিত হয়েছি।’ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে নিহত ইব্রাহিমের প্রথম পক্ষের স্ত্রী মাহমুদা বলেন, ‘আমার স্বামীরে যারা খুন করছে, তাগো সবার ফাঁসির রায় হওয়ায় আমি সন্তুষ্ট। বিশেষ করে র্যাবের কর্মকর্তাগো ফাঁসির আদেশ দেয়ায় আমি সবচাইতে বেশি খুশি হইছি। এহন শুধু রায় কার্যকরের অপেক্ষার পালা।’

No comments:
Post a Comment