লাকসাম
শহরের দৌলতগঞ্জ বাজারে শুক্রবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে
বাজারের দেড় শতাধিক দোকান পুড়ে গেছে। মনোহরি পট্টি, স্বর্ণপট্টি ও কাপড়িয়া
পট্টিতে এখন ছাই ও পোড়া গন্ধ বিরাজ করছে। সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা
ব্যবসায়ীরা কাঁদছেন। আগুনে কয়েকশ’ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি
করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। ফায়ার সার্ভিস বাহিনী ও ব্যবসায়ীরা জানান,
রাত ১১টার দিকে দৌলতগঞ্জ বাজারের মনোহরি পট্টির একটি কসমেটিকসের দোকান থেকে
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তের মধ্যে পুরো
টিনশেড দোকানগুলোয় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস বাহিনীর লাকসামের
দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে কুমিল্লা,
চৌদ্দগ্রাম, চৌয়ারা, বরুড়া, সোনাইমুড়ি ও হাজীগঞ্জ থেকে একে একে ফায়াস
সার্ভিস বাহিনীর আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে।
তারা সম্মিলতভাবে আগুন
নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। কিন্তু মনোহরি পট্টিতে প্লাস্টিক, আতশবাজি
থাকায় এবং কাপড় পট্টির গুদামগুলোতে আগুন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় তা
নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় ফায়াস সার্ভিস বাহিনীর সঙ্গে আগুন
নেভানোর কাজে যোগ দেন স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা চেষ্টার
পর সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণেভ আসে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজন ও
ব্যবসায়ীদের আর্তচিৎকারে পুলিশ ও ফায়াস সার্ভিস বাহিনী এসে হাজির হয়। তাদের
বাঁশির আওয়াজে বাজারের লোকজন নিরাপদ স্থানে সরে আসে। আগুনে হতাহতের কোনো
ঘটনা না ঘটলেও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়নি। আগুনে কাপড় পট্টির প্রায় ৪৩টি
দোকান, দু’টি কাপড়ের গোডাউন, ১৬টি জুয়েলারি দোকান, ৪০টি জুয়েলারির কারখানা,
দু’টি তেলের মিল, দু’টি খাবার হোটেল, দু’টি লাইব্রেরি, ১৩টি মুদি মনোহরি
দোকানসহ দেড় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়েছে। কাপড় ব্যবসায়ী ফারুক
জানান, কাপড় পট্টির ৪৩টি দোকান ও গুদামের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বাজারের জুয়েলারি মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি সুভাষ বণিক জানান, আগুনে ১৬টি
জুয়েলারি দোকানসহ ৪৪টি কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কমপক্ষে তিনশ’ কোটি
টাকা ক্ষতি হয়েছে। ফায়াস সার্ভিস বাহিনী জানায়, বাজারে টিনশেড দোকান, কাপড়,
সুতা, গ্যাসলাইন,
প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য ও তেলের মিল থাকায় আগুন দ্রুত
ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। লাকসাম ফায়ার সার্ভিসের
সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোবারক আলী জানান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে
আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে
দোকান মালিক ও কর্মচারীরা দিশেহারা। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সকাল থেকে
ঘটনাস্থলে লোকজনের উপচে পড়া ভিড় ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি
সমবেদনা জানিয়ে দৌলতগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি শনিবার সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
বন্ধ রাখে। আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য
মো. তাজুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক
জাহাঙ্গীর আলম, কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা
চেয়ারম্যান ইউনুছ ভূইয়া, পৌর মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের, উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

No comments:
Post a Comment