Saturday, January 21, 2017

ব্রিজের অভাবে রাঙ্গাবালীর লক্ষাধিক মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ

একটি ব্রিজের অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। উপজেলা সদর ও ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া দারছিরা নদী সরাসরি যোগাযোগের একমাত্র বাধা। এর উপর দিয়ে নেই কোনো সেতু। অবশ্য এক সময়ের ভয়াল দারছিরা এখন খালে পরিণত হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের পলিমাটিতে ভরাট হয়ে চরগঙ্গা, চরহালিমের সাথে মিসে একই নাম ধারণ করে বিরাট এলাকা জুড়ে জনবসতিতে পরিপূর্ণ। পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে দারছিরার অংশবিশেষ। ছোট বাইশদিয়া ও উপজেলা সদর রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের কোল ঘেঁষে আগুনমুখা থেকে শুরু করে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত দারছিরা এখন খালে পরিণত হয়েছে। পশ্চিম পাড়ে একই উপজেলার বড়বাইশদিয়া ও প্রস্তাবিত মৌডুবি ইউনিয়ন। উপজেলা সদর ও ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগ রক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নদী নামের খালটি। ব্রিজের অভাবে ভুগছে দুই পারের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।
উপজেলা সদর থেকে খালগোড়া বজার হয়ে বড়বাইশদিয়া ও প্রস্তাবিত মৌডুবি ইউনিয়নসহ কলাপাড়া উপজেলার সাথে যোগাযোগ রক্ষায় একটিমাত্র সড়ক পথ। প্রতিদিন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, নারি, বৃদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার হাজারো মানুষ আসা যাওয়া করে এই পথে। বাধা হয়ে দাঁড়ায় নদী নামের খালটি। ভোগান্তিতে পড়ে মানুষগুলো। পারাপারের বাহন একটিমাত্র খেয়া নৌকা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় খেয়া। ভাটার সময় হাঁটু পানিতে কাঁদা পেরিয়ে উঠতে হয় নৌকায়। জোয়ার এলে পানিতে একাকার হয়ে জীবনের ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। খেয়া তলিয়ে যে কোনো সময় প্রাণহানির সম্ভবনা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। দু-পাড়ের মনুষেরা জানিয়েছেন, এর আগে ভাগ্যিস কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও প্রায় অর্ধমৃত অবস্থায় উদ্ধার করতে হয়েছিল খেয়া যাত্রীদের অনেককে। রাঙ্গাবালী উপজেলা সদর ও ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের সাথে একই উপজেলার বড়বাইশদিয়া ও প্রস্তাবিত মৌডুবি ইউনিয়নসহ কলাপাড়া উপজেলার সাথে যোগাযোগ রাক্ষায় খালগোরা বাজার সংলগ্ন স্থানে একটি ব্রিজ উপজেলাবাসীর প্রাণের দাবি। এব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) সাদিকুর রহমান বলেন, ওখানে একটা ব্রিজ প্রয়োজন। আমি ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলে ব্রিজের প্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা করবো।

No comments:

Post a Comment