Monday, January 23, 2017

মগবাজারে ধীরগতির উন্নয়ন কাজে দুর্ভোগ চরমে

উন্নয়ন কাজে ধীরগতির কারণে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে ঢাকার মগবাজার আবাসিক এলাকায়। চলাচলের বেশিরভাগ রাস্তাই নির্মাণসামগ্রী, পুরনো ইট, সুরকি এবং নর্দমার নোংরা কাদায় ভরপুর। আবার নর্দমা সংস্কারের জন্য আনা ড্রেনেজ পাইপও এলোপাতাড়ি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে রাস্তাজুড়ে। এছাড়াও কোন কোন জায়গায় পুরনো পরিত্যক্ত ড্রেনেজ পাইপের কারণেও চলার পথ দখলে রয়েছে। এতে করে ছোটখাটো যানবাহন এসব রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করতে পারছে না। আবার পথচারী চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।
মূলত উন্নয়নের জন্য সাময়িক অসুবিধা মেনে নিলেও স্থানীয়রা বলছেন ভিন্ন কথা। কারণ এ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। কাজের ধারবাহিকতা না থাকায় জনদুর্ভোগ হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। সিটি কর্পোরেশনের স্থানীয় ওয়ার্ড কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২০ অক্টোবর থেকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৫নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত মগবাজার অঞ্চলের নয়াটোলা-শাহ সাহেব লেন, হাতিরঝিল সংলগ্ন চেয়ারম্যান গলি, মগবাজার-জাফরানবাদ আবাসিক এলাকা (র‌্যাব-৩) এবং বগুড়া গলি হতে গাবতলা রোড পর্যন্ত সড়কের নর্দমাসহ কয়েকটি সংযোগ রাস্তার উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এসব উন্নয়ন বাস্তবায়নকারী হলেও নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিকে এন্টারপ্রাইজ। তখন এটি সমাপ্ত হওয়ার সময়সীমা নির্র্ধারণ করা হয় চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল। কিন্তু শুরু হওয়ার পর থেকেই মাঝেমধ্যে কাজ বন্ধ থাকায় তা নির্ধারিত সময়ের পূর্বে শেষ হওয়া নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আক্ষেপ, দীর্ঘ দুর্ভোগের পর দেরিতে হলেও উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু কাজের গতি মন্থর হওয়ায় বর্তমানে দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে। কারণ নর্দমা এবং রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে একদিকে যেমন পুরনো ইট-বালি, সুরকি ও ময়লা-আবর্জনায় রাস্তা দখল রয়েছে; তেমনি ধুলাবালি ও দুর্গন্ধে মানুষের চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই দেরি না করে দ্রুত কাজ শেষ করলে দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নতুন কালভার্টগুলোকে দেখিয়ে বলেন, এগুলো দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। কিন্তু কেন এখনও কাজে লাগানো হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়। মাঝেমধ্যে কাজ বন্ধ থাকায় কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। এ ব্যাপারে কথা হয় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়জুল মনিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকলেও আশা করি নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হবে।

No comments:

Post a Comment