ঢাকার
মঞ্চে রোববার সন্ধ্যায় ছিল দর্শকনন্দিত দুই নাটকের মঞ্চায়ন। বেইলি রোডের
মহিলা সমিতি মিলনায়তনের নীলিমা ইব্রাহিম মঞ্চে ছিল নাট্যদল পালাকালের
‘নারীগণ’ এবং শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে
মঞ্চস্থ হল নাট্যদল আরণ্যকের নাটক ‘রাঢ়াঙ’। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব
সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যার মাধ্যমে ২০০ বছরের পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ হয় এ
উপমহাদেশ। ষড়যন্ত্রের সাক্ষ্য পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের পর নবাবকে নৃশংসভাবে
হত্যার পর রাজপ্রাসাদের অন্তঃপুরে নারীমহলে ঘটেছিল হদয়বিদারক ঘটনা। নবাবের
স্ত্রী, মা ও মাতামহ বন্দি হন ইংরেজদের হাতে। তারা শিকার হন নৃশংস
হত্যাকাণ্ডের। ইতিহাসে এর কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ না মিললেও ইতিহাসের সেই অজানা
অধ্যায় উঠে এসেছে নারীগণ নাটকে। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের রচনা থেকে
পালাকারের সপ্তম প্রযোজনাটির নির্দেশনা দিয়েছেন আতাউর রহমান। নাটকের
বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারহানা মিঠু, তানিয়া হোসেন দীপ্তা রক্ষিত
লাভলী, জয়িতা মহলানবীশ, আরজুমান্দ আরা বকুল প্রমুখ। সাঁওতালদের জীবনের নানা
ঘাত-প্রতিঘাত এবং সংগ্রামের কাহিনীকে উপজীব্য করে নির্মিত হয়েছে আরণ্যক
নাট্যদলের নাটক রাঢ়াঙ। প্রযোজনাটি রচনার পাশাপাশি নির্দেশনা দিয়েছেন
মামুনুর রশীদ। নাটকটির গল্প গড়ে উঠেছে সাঁওতালদের নিয়ে। ভারতীয় উপমহাদেশে
ঔপনিবেশিক ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যারা প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধে রুখে দাঁড়ায়
তারা সাঁওতাল। ১৭৮৪ সালে হাজারীবাগ জেলার কালেক্টর ক্লিভল্যান্ডকে হত্যার
মাধ্যমে এর সূত্রপাত। তারপর ১৮৫৫ সালে সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরবের নেতৃত্বে
গড়ে ওঠে সাঁওতাল বিদ্রোহ নামের এক ঐতিহাসিক প্রতিরোধ- যার পরবর্তী অধ্যায়
সর্বভারতীয় প্রতিরোধ ও ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে
অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, চঞ্চল চৌধুরী, আ খ ম হাসান, শামীম জামান,
তমালিকা কর্মকার, জয়রাজ, হাশিম মাসুদ প্রমুখ। লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য
সংসদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের প্রতিষ্ঠার ১৮
বছর পূর্তি উপলক্ষে রোববার বিকালে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান
মিলনায়তনে হয়ে গেল সাহিত্য অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে কাব্য, সাহিত্য ও গল্পে
বিশেষ অবদানের জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদ পুরস্কার ও বাংলা আওয়াজ
লেখক সম্মাননা প্রদান করা হয়। লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদ পুরস্কার
পেয়েছেন কবি আমিনুর রহমান সুলতান, প্রাবন্ধিক ও গবেষক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।
বাংলা আওয়াজ লেখক সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন প্রবীণ শিক্ষক ও লেখক সালেহা
আনোয়ার ও কিশোর প্রাবন্ধিক শাদমান মাহতাব কিবরিয়া। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি
ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউটের সাম্মানিক সভাপতি রামেন্দু
মজুমদার, বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি
অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল, নোয়াখালীর পত্রিকা নোফেলের সম্পাদক আবু হেনা
আবদুল আওয়াল ছিলেন মুখ্য আলোচক।

No comments:
Post a Comment