Saturday, January 21, 2017

জ্ঞান ও প্রযুক্তির সেতুবন্ধই আমাদের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশের লাখ লাখ যুবশক্তির সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে বাংলাদেশ বৈশ্বিক জ্ঞান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগকে স্বাগত জানাবে। এতে নিশ্চিতভাবেই উভয়পক্ষই লাভবান হবে। আমাদের সমাজ এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে জ্ঞান ও প্রযুক্তির সেতুবন্ধন করাই আমাদের লক্ষ্য।’ সুইজারল্যান্ডের দাভোসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘ডিজিটাল লিডারস পলিসি মিটিং অন জব’ শীর্ষক সেশনে বিশেষ অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্থানীয় শেরাটন হোটেলে এ সেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের সাফল্যগাথা সবার সামনে উপস্থাপনের জন্য এ বছর ডব্লিউইএফ তাদের বিশেষ অতিথি এবং প্যানেল আলোচক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মনোনীত করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের কারণে বাংলাদেশ তার যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটাতে চায়। বর্তমান সময় থেকে অন্তত আগামী ৩ দশক পর্যন্ত আমরা জনসংখ্যার একটি বড় অংশ হিসেবে পাব যুব সমাজ।’ দেশের জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বয়স ১০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
‘আমাদের জনগণ যে কোনো প্রযুক্তি বিশেষ করে বর্তমানকালের তথ্যপ্রযুক্তি যেন দ্রুত গ্রহণ করতে পারে, তেমনি এর সঙ্গে খাপ খাওয়াতেও পারে। বিশ্বে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী হিসাবে বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম স্থানে। ছয় কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, যার অধিকাংশই স্মার্টফোনের সাহায্যে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ সপ্তাহজুড়ে দাভোসের আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে আগামীর উৎপাদন, কর্মকাণ্ড, প্রযুক্তি এবং এ সম্পর্কিত নানা বিষয়। ডব্লিউইএফ নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্লাউস সোয়াব ব্যাখ্যা করেছেন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন বিশ্বের কর্মপন্থা এবং উৎপাদন ব্যবস্থা পরিবর্তিত হচ্ছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি আমাদের জীবন এবং জীবনমানকে উন্নত করেছে। সবাই যেন এ পরিবর্তনের ছোঁয়া পায় তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যে, প্রযুক্তি আমাদের উন্নয়নের জন্য, তা যেন কোনোভাবেই বিঘ্ন সৃষ্টির কারণ না হয়।’ প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ এখন একটি বৃহৎ ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ডেভেলপ করছে, যার নাম মুক্তপথ। এ  প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে যে কোনো স্থান থেকে বাংলাদেশীরা তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে নিতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘এটা হল আমাদের তারুণ্যকে এ কর্মমুখী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা।’ বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে কারিগরি শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন ট্রেনিংকে (টিভিইটি) শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য ‘থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন বিশ্বজুড়ে কাজ করা আইটি ফ্রিল্যান্সারদের অন্যতম বড় ক্ষেত্র বাংলাদেশ। আমরা এখন নারী ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছি। জোর দিচ্ছি দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় ফ্রিল্যান্সার তৈরিতেও। সারা দেশে বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ আইটি ফ্রিল্যান্সার রয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। দেশব্যাপী সাড়ে চার হাজার ডিজিটাল সেন্টার থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর ফলে বাংলাদেশের প্রতিটি অলিগলি এখন একটি অপরটির সঙ্গে সংযুক্ত। সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। মানুষের অর্থ-শ্রম দুটোই বাঁচছে,
কাজের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।’ এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইজারল্যান্ডে তার ৫ দিনের সফর শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে জুরিখ ত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে দুবাইর উদ্দেশে জুরিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। দুবাইতে ৪ ঘণ্টা যাত্রাবিরতির পর ভোর ৪টায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। সুইজারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি শামীম আহসান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি আজ সকাল সোয়া ১০টায় ঢাকায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক ক্লাউস সোয়ানের আমন্ত্রণে ফোরামের ৪৭তম বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে ১৬ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ড পৌঁছান। ১৭ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত দাভোসে ডব্লিউইএফের এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘সহানুভূতিশীল ও দায়িত্ববান নেতৃত্ব।’ সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ডব্লিউইএফ সম্মেলনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি ফোরামের নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্লাউস সোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি ফোরামের নির্ধারিত অনুষ্ঠানমালার পাশাপাশি বিভিন্ন বৈঠকে যোগ দেন।

No comments:

Post a Comment