Tuesday, January 17, 2017

সয়াবিনে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে

ফের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ছে সয়াবিন তেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ (ফেজ-২) প্রকল্পের। ভিটামিন ‘এ’সমৃদ্ধ ভোজ্য তেল ব্যবহারের মাধ্যমে জনসাধারণের ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা, এসংক্রান্ত রোগ হ্রাস এবং শিশু ও মাতৃ মৃত্যু কমানোর জন্য এ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাস্তবায়ন না হওয়ায় এর আগে একবার প্রকল্প সংশোধন করা হয়েছিল। এবার দ্বিতীয়বারের মতো ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এ বিষয়ে বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যথাসময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রকল্পের কাক্সিক্ষত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হলেও এর কার্যক্রম আরও ছয় মাস অর্থাৎ আগামী জুন মাস পর্যন্ত অব্যাহত রাখা হবে। এজন্য বিএসটিআই ও রিফাইনারিগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভিটামিন ‘এ’ মিশ্রিত ভোজ্য তেল পরীক্ষার জন্য একটি অতিরিক্ত এইচপিএলসি মেশিন ক্রয় এবং এসএমসি ও অ্যাডভোকেসি বাবদ এক কোটি ১৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া গেছে। এসব কারণে প্রকল্পটি আবারও সংশোধন করা হচ্ছে।
শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ফর্টিফিকেশন অব এডিবল অয়েল ইন বাংলাদেশ (ফেজ-২) শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭ কোটি ৫৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ২ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং গ্লোবাল এলিয়েন্স ফর ইমপ্র“ভড নিউট্রিশনের (জিএআইএন) অনুদান ১৫ কোটি ৮ লাখ ১৮ হাজার টাকা। কিন্তু নানা কারণে প্রথম মেয়াদে প্রায় ৪ কোটি ২২ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ২১ কোটি ৭৮ লাখ ৩১ হাজার টাকা করা হয় এবং মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এর মধ্যেও বাস্তবায়ন শেষ না হওয়ায় এখন দ্বিতীয় সংশোধন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে মেয়াদ ছয় মাস বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এবং ব্যয় এক কোটি ১৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বাড়ানো হচ্ছে। প্রকল্পটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাট, যশোর, শেরপুর, বগুড়া ও জামালপুসহ সারা দেশে বাস্তবায়ন করছে শিল্প মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মা ও শিশুর জন্য ভিটামিন ‘এ’ খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। ন্যাশনাল মাইক্রোনিউট্রিয়ান্ট সার্ভে অনুযায়ী শহর, গ্রাম কিংবা বস্তিবাসী জনগণের প্রতি দিন মাথাপিছু ভোজ্য তেল গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ২৪ দশমিক ৪০ গ্রাম, যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। জনসাধারণের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব দূর করণের সবচেয়ে বাস্তবম্মত, সাশ্রয়ী ও টেকসই উপায় হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ মিশ্রিত ভোজ্য তেল ব্যবহার করা। বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই ভিটামিন ‘এ’ মিশ্রিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিএআইএনের অনুদানে শিল্প মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ ও বিএসটিআই যৌথভাবে ফেজ ওয়ান কারিগরি সহায়তা প্রকল্প গ্রহণ করে। এ প্রকল্পের ব্যয় ছিল ২৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের জুন মেয়াদে এটি বাস্তবায়িত হয়। এ প্রকল্পের সফলতার পর তেল রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিতে নিয়ে আসা এবং ভোক্তা ও বাজার পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ ও ভিটামিন ‘এ’ মিশ্রিতকরণ আইন চূড়ান্ত করার জন্য ফেজ-টু প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। এ অংশের প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন লাভ করে।

No comments:

Post a Comment