রাজধানীতে
যানজটে নাকাল হয়েছেন নগরবাসী। মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর বেশ কয়েকটি সড়কে
তীব্র যানজট দেখা দেয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয় যাত্রীদের।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারী ও শিশুরা। দীর্ঘ জটে যাত্রীদের কেউ কেউ
গাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়েন। বিপাকে পড়েন অফিসগামী মানুষ। এক ঘণ্টার পথ যেতে হয়েছে
আড়াই থেকে তিন ঘণ্টায়। দুঃসহ যানজটে দীর্ঘ সময় গাড়ি একই স্থানে আটকে থাকায়
বিরক্ত হয়ে অনেককেই হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হতে দেখা গেছে। বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রাফিউল হাসান বলেন, উত্তরা যেতে মঙ্গলবার সকাল
৯টায় সেগুনবাগিচা থেকে রওনা হন। মগবাজার হয়ে মহাখালী যেতেই সময় লেগেছে আড়াই
ঘণ্টা। তিনি বলেন, ‘দিনের শুরুতেই যানজটে আটকে যাওয়ায় আমার মতো অনেক
অফিসগামীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে।’ একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ
করেছেন রামপুরা থেকে বিশ্বরোডগামী যাত্রীরা। তারা বলেন, ওই সড়কেও গাড়ি
ধীরগতিতে চলেছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এক ঘণ্টার পথ যেতে তিন
ঘণ্টা লেগেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,
মগবাজার থেকে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের
সড়কে বিদ্যুতের মোটা পাইপ বসানো হচ্ছে। ওই পাইপ বসাতে রাস্তায় গর্ত করা
হয়েছে। এ কারণে চার লেনের ওই সড়কের তিন লেনই বন্ধ হয়ে গেছে। কাকরাইল থেকে
মগবাজার পর্যন্ত এক লেনে গাড়ি চলছে। কাকরাইল থেকে মালিবাগ রেলগেট ও আবুল
হোটেল পর্যন্ত ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলছে। ওই সড়কে রাস্তার ওপরে
নির্মাণসামগ্রী রাখা আছে। রাস্তাও ভাঙাচোরা। গাড়ি চলে হেলেদুলে। এ দুটি
সড়কের সমস্যার কারণে যানজট কাকরাইল, শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ফকিরেরপুল পর্যন্ত
ছাড়িয়ে যায়। এ ছাড়া রামপুরা ব্রিজ থেকে বাড্ডা পর্যন্ত সড়কের কোথাও কোথাও
রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এর ফলে বিশ্বরোড থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত পুরো
সড়কে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হয়। এ সড়কের যানজট এড়াতে অনেকেই ফার্মগেট,
মহাখালী ও বনানী সড়ক ব্যবহার করেন। এতে এ সড়কটিতেও গাড়ির চাপ বেশি ছিল।
আরও
জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নিয়ন্ত্রণাধীন গুলশান ডিসিসি
মার্কেটে আগুন লাগার কারণে গুলশানের ভেতরে কয়েকটি সড়কে যান চলাচল কিছু
সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়। এতে গুলশান ও বনানীর অন্যান্য সড়কে গাড়ির চাপ
বেড়ে যায়। দেখা দেয় যানজট। সরেজমিন আরও দেখা গেছে, সকাল ১০টার দিকে
ফার্মগেট থেকে গুলিস্তান সড়কে থেমে থেমে যানজট ছিল। এতে অফিসগামীরা
ভোগান্তিতে পড়েন। অনেককেই গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। যানজটের
বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো.
মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, মগবাজার থেকে হলি ফ্যামিলি রেড
ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে বিদ্যুতের পাইপ বসানোর কাজ
শেষ হতে আরও তিন দিন সময় লাগবে। ওই পর্যন্ত কিছুটা যানজট থাকবে। ওই সড়কের
চার লেনের স্থলে এক লেনে গাড়ি চলছে। তিনি বলেন, মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ
চলমান থাকায় সড়কে গাড়ি চলাচলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে প্রধান সড়কে গাড়ি
চলাচল অব্যাহত ছিল।

No comments:
Post a Comment