যুক্তরাষ্ট্রের
৪৪তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে কার্যক্রম শেষ করে আনছেন বারাক ওবামা।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল
৮টা) শিকাগোয় শেষ ভাষণ দেবেন তিনি। প্রেসিডেন্টের জন্য বরাদ্দ বিশেষ বিমান
‘এয়ার ফোর্স ওয়ানে’ শেষবারের মতো ভ্রমণ করে ওবামা তার নিজ শহর শিকাগোয়
পৌঁছেছেন। আট বছর আগে এখানেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম ভাষণ দিয়েছিলেন
তিনি। খবর এএফপির।
টানা দুই মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় থাকার পর
আগামী ২০ জানুয়ারি বিদায় নিচ্ছেন বারাক ওবামা। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে
ওইদিন শপথ নেবেন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের
প্রেসিডেন্সি নিয়ে অনেক আমেরিকানের মধ্যে ভীতি ও আতংক রয়েছে। বারাক ওবামা
তার শেষ ভাষণে নাগরিকদের হতাশা কাটিয়ে নতুন স্বপ্নের কথা শোনাবেন। ওবামার
ভাষণ-লেখক কডি কেনান জানিয়েছেন, শিকাগোয় ‘ওবামা ভিশন’ ঘোষণা করবেন
প্রেসিডেন্ট, যেই লক্ষ্যে উপনীত হতে দেশের সামনে অনেক পথ বাকি। কেনান বলেন,
‘এটা ট্রাম্পবিরোধী কোনো বক্তব্য হবে না, তাজা মাংসের মতো কাঁচা কথা হবে
না, এটা জনগণকে উত্তেজিতও করবে না। বরং এই ভাষণ হবে রাষ্ট্রনায়কসুলভ। আর
সেটা ওবামার জন্যই সত্য। তিনি জাতিকে একটি গল্প বলতে যাচ্ছেন।’ ওবামার
সঙ্গে ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা, ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও উপস্থিত
থাকবেন। ওবামার বিদায়ী ভাষণ শুনতে তিন ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও হাজার হাজার
মানুষ উপস্থিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যেই ভাষণস্থলে টিকিট বিক্রি
শেষ হয়ে গেছে। শীতের তীব্রতা উপক্ষে করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের
বক্তব্য ছিল, তারা প্রেসিডেন্ট ওবামার কাছ থেকে আশার বার্তা শুনতে চান।
প্রথম দিকে টিকিট ফ্রি করা হয়েছিল। যে আগে আসবেন তাকেই টিকিট দেয়া হবে।
জনপ্রতি একটি টিকিটই নির্ধারিত ছিল। কিন্তু মানুষের ভিড় এত বেশি ছিল যে
একটি টিকিট এক হাজার ডলারেও বিক্রি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিদায়ী
ভাষণকে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হয়। জর্জ ওয়াশিংটনের ৭৬৪১ শব্দের শেষ
ভাষণ এখনও প্রতি বছর একবার সিনেটে পড়ে শোনানো হয়। ওই ভাষণে মানুষের বিভেদ ও
বিদেশী হস্তক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। সিনিয়র বুশ ও বিল ক্লিনটন
তাদের শেষ ভাষণ হোয়াইট হাউসে দিয়েছিলেন। জর্জ ডব্লিউ বুশ তার
পররাষ্ট্রনীতির ভাষণ দিতে নিউইয়র্কের ওয়েস্ট পয়েন্টে গিয়েছিলেন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্য শিকাগো একটি ঐতিহাসিক শহর। যুক্তরাষ্ট্রের
তৃতীয় বৃহত্তম এই নগরীতে তার বেড়ে ওঠাই শুধু নয়, ক্যারিয়ারেরও শুরু।
শিকাগোর উইন্ডিতে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন ওবামা। দারিদ্র্যকবলিত
কৃষ্ণাঙ্গদের এই এলাকাটিতে তিনি প্রথমে একজন কমিউনিটি অর্গানাইজার হিসেবে
কাজ শুরু করেন। এরপর রাজ্য পার্লামেন্টের সদস্য হন। পরে তিনি ইলিনয় থেকে
যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিনেটর হন। গত সপ্তাহে সিবিএস চ্যানেলকে দেয়া এক
সাক্ষৎকারে ওবামা বলেন, ‘শিকাগোয় কাজ করার সময় আমি মানুষের মাঝে হতাশাও
দেখেছি আবার আশার আলোও দেখেছি।’ তিনি ১৯৯৫ সালে তার আত্মজীবনীতে লেখেন ‘আমি
আমার বাবার কাছ থেকে স্বপ্ন দেখতে শিখেছি।’ হোয়াইট হাউসের প্রেস
সেক্রেটারি জোশ আর্নেস্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামা শেষবারের
মতো ওয়াশিংটন ডিসির বাইরে যাচ্ছেন। আমি মনে করি তার শিকাগো যাত্রা এয়ার
ফোর্স ওয়ানে শেষ ভ্রমণ। যদিও নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথের পর
তিনি একবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ভ্রমণ করতে পারবেন।’ ক্ষমতা ছাড়ার পর ওবামা
এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়বেন কিনা, আর চড়লেও কোথায় যাবেন- সে ব্যাপারে কিছু জানা
যায়নি।

No comments:
Post a Comment