নতুন
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন সংক্রান্ত সার্চ কমিটির কাছে পাঁচ জনের নাম
প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী
কমিটির বৈঠক ডেকেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রোববার রাত ৯টায়
রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার দিবাগত রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য
শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। জানা
গেছে, ইসি গঠনের লক্ষ্যে গঠিত ছয় সদস্যের সার্চ কমিটির ব্যাপারে দলীয়
অবস্থান স্পষ্ট করা এবং এ কমিটির কাছে পাঁচ জনের নাম প্রস্তাব করা হবে কি
না তার বিষয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর আগে শনিবার সকালে
সুপ্রিমকোর্ট ভবনের জাজেস লাউঞ্জে ইসি গঠন সংক্রান্ত সার্চ কমিটির প্রথম
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপ করা ৩১টি রাজনৈতিক দলের
কাছে নাম চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে কমিটির ছয় সদস্য- হাইকোর্ট
বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সরকারি কর্মকমিশন চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ
সাদিক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মাসুদ আহমেদ, ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া
তাদের সাচিবিক সহায়তা দিতে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ
শফিউল আলম। বৈঠক শেষে মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, 'সার্চ কমিটির
প্রথম বৈঠক ছিল কর্মপন্থা নির্ধারণীর। বৈঠকে ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে
সংলাপ করা ৩১টি দলের কাছে ৫ জন করে নাম চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।'
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দলগুলোকে আগামী ৩১ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ১১টার
মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) বরাবর নামের এই তালিকা
জমা দিতে বলা হয়েছে। এর আগের দিন সোমবার বিকাল ৪টায় দেশের বিশিষ্ট ১২ জন
নাগরিকের সঙ্গে বৈঠক করবে সার্চ কমিটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী
১০ কার্য দিবসের মধ্যে বিশিষ্ট নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে পাওয়া নাম
থেকে চূড়ান্ত করে সার্চ কমিটির সিইসিসহ ৫ কমিশনারের বিপরীতে দু'জন করে ১০
জনের তালিকা রাষ্ট্রপতির হাতে দেবে। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর
সঙ্গে পরামর্শ করে সিইসিসহ ৫ জনকে নিয়োগ দিবেন। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের
নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসির মেয়াদ ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে। অবশ্য একজন
কমিশনার একেএম শাহনেওয়াজের মেয়াদ শেষ হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। তাই ফেব্রুয়ারির
মধ্যেই গঠন করা হবে নতুন ইসি। এ ইসির অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে পরবর্তী জাতীয়
সংসদ নির্বাচন।

No comments:
Post a Comment