Monday, January 30, 2017

মুসলিম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

শরণার্থী ও অভিবাসী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়ন শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। শুক্রবার ট্রাম্পের আদেশের পর শনিবার মিসরের একটি বিমানবন্দরে বৈধ ভিসা থাকার পরও ইরাকের পাঁচজন ও ইয়েমেনের একজনকে যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে উঠতে দেয়া হয়নি। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় গ্রিন কার্ডধারী ১২ জনকেও আটক করে পুলিশ। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে বিক্ষোভকারীদের ঢল নামে। তারা ট্রাম্পের আদেশ প্রত্যাহারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ও শরণার্থীদের মর্যাদা বাড়ানোরও দাবি জানান। শনিবার দুপুরে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরের কয়েক শ’ বিক্ষোভকারীকে ‘লেট দেম ইন’, ‘ব্যান-ডেথ, উই আর আমেরিকান-উই স্টে হিয়ার’সহ নানা ধরনের স্লোগান দিতে দেখা গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস, সানফ্রান্সিসকো, শিকাগোর ও’হেয়ার, ওয়াশিংটন ডিসির ডালাসসহ ডজনখানেক এয়ারপোর্টে ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে হাজারও নাগরিক বিক্ষোভ করছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
আটকদের ছাড়াতে তাদের আইনজীবীরাও বিমানবন্দরগুলোতে তৎপর রয়েছেন। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরের ৪ নাম্বার টার্মিনাল থেকে বিক্ষোভের সূত্রপাত। অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে ১১ জন শরণার্থীকে আটক করার পরই এ বিক্ষোভ শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে ট্রাম্প যখন নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন তার আগেই ওই শরণার্থীরা ট্রানজিটে ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড সিভিল রাইটস গ্রুপের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আটলান্টা, হিউস্টন এবং ডেট্রুয়েটেও কয়েকজন ভ্রমণকারীকে আটক করা হয়েছে। কেবল জেএফকে বিমানবন্দরই নয়, ওয়াশিংটন ডিসির ডালেস বিমানবন্দরেও বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। বিক্ষোভকারীদের হাতে দেখা গেছে বিভিন্ন স্লোগানযুক্ত প্ল্যাকার্ড। সেখানে লেখা ছিল- ‘আমরা সবাই অভিবাসী’, ‘আমরা সবাই মুসলিম’, ‘তাদের আসতে দাও’, ‘শরণার্থীদের স্বাগত’, ‘অমান্য কর’ এবং ‘প্রতিরোধ কর’। বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ-আতঙ্ক : সাত দেশের মুসলিম শরণার্থী নিষিদ্ধ করে ট্রাম্পের দেয়া আদেশে সারাবিশ্বেই ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে, বইছে নিন্দার ঝড়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী-রাজনীতিকসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাচ্ছে। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টির চিবুক বেয়ে অশ্রু ঝরে পড়া’র সঙ্গে তুলনা করেছেন মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা চাক শুমার। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে ঐতিহ্যটি বিদ্যমান রয়েছে, তা বাতিল করায় আজ রাতে স্ট্যাচু অব দ্য লিবার্টির চিবুক দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।’

No comments:

Post a Comment