যুক্তরাষ্ট্রের
হাসপাতালে ৭৬ বয়সী মা ইসাফ জামালেদ্দিনের অস্ত্রোপচার হবে। এজন্য সাত দিন
মায়ের পাশে থাকতে চেয়েছিলেন সিরীয় নারী সাহার আলগোনাইমি। পরিকল্পনা মতো
শুক্রবার সৌদি থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানের আরোহী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু
শনিবার শিকাগোতে অবতরণের পর ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি।
অভিবাসন
কর্মকর্তারা তার পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেন। তিনি কর্মকর্তাদেরকে তার মায়ের
অস্ত্রোপচারের বিষয়ে চিকিৎসকদের কাগজপত্র দেখান। এছাড়া তিনি গত ৩০ বছর ধরে
রিয়াদে বসবাস করেন বলেও জানান। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার কথা বলে সাহার
আলগোনাইমিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। পরে রোববার রিয়াদে
পৌঁছে এ স্কুল শিক্ষিকা বলেন, আমি বুঝাতে পারবো না যে আমার কেমন লাগছিল,
এটি মানবতার প্রতি অশ্রদ্ধা, আমি সেখানে আমার অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়েছিলাম।
আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না দেয়ার কোনো যথার্থ যুক্তি নাই। এটি ছিল খুবই
মর্মান্তিক হতাশার অনুভূতি। শিকাগোর ও' হারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে
সাহারের জন্য তার কিশোর ভাতিজারা অপেক্ষা করছিল বলে জানান তার বোন নূর
উলায়েত। তিনি জানান, অপেক্ষার পর এক পর্যায়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছ থেকে
তিনি একটি ফোন পান যাতে জানতে চাওয়া হয় তারা কারও জন্য অপেক্ষা করছেন কি
না। নূর বলেন, জবাবে আমি 'হ্যাঁ' বলি।
তখন তারা বলেন আমার যার জন্য অপেক্ষা
করছি তিনি ইমিগ্রেশনের বাইরে আসতে পারছেন না। নূর উলায়েত যুক্তরাষ্ট্রে
একজন বৈধ নাগরিক। তিনি ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা। বোনকে একদিনের জন্য
হলেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দিতে তিনি কর্মকর্তাদের কাছে অনুনয় করেন।
তিনি এও বলেন, মা অসুস্থতা নিয়ে তারা জরুরি সঙ্কটকাল পার করছেন। এ কারণে
সাহারের সঙ্গে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে হলেও যেন তাকে মায়ের সঙ্গে দেখা
করতে দেয়া হয়। সাহারও অনুনয় বিনয় করেন। তবে তাদের সব চেষ্টাই প্রত্যাখ্যত
হয়। তিনি বলেন, আমি কাঁদতে থাকি এবং বলি 'আমি এতটা পথ আসতে পারলাম, অথচ আমি
আমার মাকে দেখতেও পারব না-এটা কিভাবে সম্ভব'? তিনি আরও বলেন, আমি তাদের
বলি, 'মেহেরবানি করে আমাকে মায়ের কাছে যেতে দিন, আপনাদের কেউ আমার সঙ্গে
আসেন, আমি মাকে একবার দেখেই তার সঙ্গে ফিরে আসব'। কিন্তু মার্কিন
কর্মকর্তারা জবাবে বলেন, আমাদের কিছুই করার নাই। কাস্টমস কর্মকর্তারা
সাহারের প্রতি সদয় না হয়ে তাকে একটি বিমানে ফেরত পাঠায়। অস্ত্রোপচারের পর
মা ইসাফের পাশে বসা ছিলেন নূর। কিন্তু আরেক মেয়ে সাহারকে কাছে পেয়ে মন
খারাপ করেন তিনি। নূরের হাত ধরে তিনি আরবিতে বলেন, তারা কি বিমানবন্দরে
সাহারের জন্য অপেক্ষ করেছিল। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট।

No comments:
Post a Comment