Thursday, January 26, 2017

জাতীয় পার্টিসহ অন্যদের চোখে সার্চ কমিটি

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান করে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি ঘোষণা করেছে সরকার। ঘোষিত সার্চ কমিটিতে ক্ষুব্ধ বিএনপি। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকরা সার্চ কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছে।
অন্যান্য রাজনৈতিক দল সার্চ কমিটিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান বা স্বাগত না জানালেও তাদের কারও কারও প্রত্যাশা- এ কমিটির সদিচ্ছা থাকলে তারা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারবে। সরকারের চাপ উপেক্ষা করে ইসির জন্য নির্দলীয় ও যোগ্য ব্যক্তি খুঁজে বের করবে। সার্চ কমিটির সদস্যরা বিবেকের পরিচয় না দিলে জাতি ধ্বংস হবে। তবে ঘোষিত সার্চ কমিটির মাধ্যমে স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রত্যাশা ক্ষীণ বলেও মনে করেন কেউ কেউ। বুধবার যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তারা এমনটাই বলেছেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি নিয়ে সব দলের সঙ্গে যে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, রাজনীতিতে সমঝোতা ও আস্থার জায়গা তৈরিতে প্রথম ধাপে সফল হয়েছেন। সার্চ কমিটির সদস্যরা যার যার জায়গায় খুবই সম্মানিত। তাদের যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে অবশ্যই তারা একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারবেন। আমরাও আশা করি, তারা এ ব্যাপারে আন্তরিক হবেন। তাদের সদিচ্ছা থাকবে এবং তারা জাতিকে হতাশ করবেন না। তারা একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। আমাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে সময়ের ব্যবধানে ফিরে আসতে হবে।
স্বাধীন একটা কমিশন হলে রাজনীতিতেও পথচলা অনেকটা সুগম হবে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দেয়া আছে। সেই ক্ষমতাবলে তিনি সার্চ কমিটি গঠন করেছেন। তবে এখনি এ কমিটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ইসি গঠন করতে পারবে কি পারবে না সেটা বলব না। আশা করি ভালো করবে। রাষ্ট্রপতি নিশ্চয়ই তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু পাবেন এ প্রত্যাশা করেছেন। সার্চ কমিটির সদস্যরা বিবেকের পরিচয় না দিলে জাতি ধ্বংস হবে। জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, স্বাক্ষর করা ছাড়া রাষ্ট্রপতির কোনো ক্ষমতাই নেই। আমরা সংলাপের সময়ও বলেছি সার্চ কমিটি করলে কেউ পছন্দ করবে কেউ করবে না। এজন্য আমরা একটা প্রস্তাব দিয়েছি। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ সার্চ কমিটির মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন কমিশন গঠনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে আমরা একটু আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু সার্চ কমিটি ঘোষণার পর খুবই হতাশ।
কমিটিতে যাদের নাম এসেছে তারা ক্ষমতাসীন দলের লোক। তাদের বক্তব্য শুনে মনে হয়, তারা এটা দলীয় পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন। উনাদের দিয়ে নির্দলীয় ইসি আশা করা যাচ্ছে না। তারপরও অপেক্ষায় থাকব। তিনি বলেন, দু’বার নির্বাচন না করলে নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে- আরপিওতে এমন সংশোধনী আনার পর ক্ষমতাসীনদের মধ্যে একটা অহংবোধ কাজ করছে। এ কারণে তারা কোনো কিছু তোয়াক্কা করছে না। নিরপেক্ষ ইসি গঠনে ন্যূনতম কোনো প্রয়াস নেই। গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে গণফোরামের পক্ষ থেকে সার্চ কমিটির জন্য একটা প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কমিটিতে সংখ্যালঘু থেকে একজন, সাংবাদিক সমাজ থেকে একজন, একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও একজন নারীকে রাখার প্রস্তাব করেছিলাম। তিনি বলেন, সার্চ কমিটির কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে স্বাধীন কমিশনের জন্য তারা নির্দলীয় লোক খুঁজে বের করবে। স্বাধীনতার এত বছর পরও যদি আমরা একটা স্বাধীন কমিশন করতে না পারি তা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক হবে। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, সার্চ কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন। আশা করি, অর্থবহ নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

No comments:

Post a Comment