স্বজনপ্রীতি
ও স্বার্থগত দ্বন্দ্ব নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে জামাতাকে হোয়াইট হাউসের
জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করতে
যুক্তরাষ্ট্রের নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহবান
জানিয়েছেন ডেমোক্রেটরা। একদল ডেমোক্রেট চান, বিচার বিভাগ ও সরকারি নীতি
বিষয়ক অফিস জ্যারেড কুশনারের নিয়োগের আইনগত বিষয়টি খতিয়ে দেখুক। তবে
কুশনারের আইনজীবী বলেছেন, তার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি বিরোধী আইনের লংঘন হয়নি।
এর আগে ট্রাম্প সোমবার হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে তার জামাতা
জ্যারেড কুশনারের নাম ঘোষণা করেন। গত নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য তাকে এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা
হচ্ছে। তবে নাম ঘোষণার পর থেকেই দেশটিতে তার ব্যাপারে গুরুতর আইনি ও নৈতিক
উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কুশনার ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ কন্যা ইভাঙ্কার স্বামী। ২০০৯
সালে তারা বিয়ে করেন। মঙ্গলবার কুশনার ৩৬ বছরে পা দিচ্ছেন। তিনি নিউইয়র্ক
অবজারভার পত্রিকার প্রকাশক এবং শ্বশুর ট্রাম্পের মতো একজন রিয়েল এস্টেট
ব্যবসায়ী।
হোয়াইট হাউসের শীর্ষ উপদেষ্টা হিসেবে কুশনারের নাম ঘোষণার ফলে
তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কনিষ্ঠতম শীর্ষ সদস্য হতে যাচ্ছেন। তিনি
বর্তমানে চিফ অব স্টাফ রেইন্স প্রিবাস ও প্রধান কৌশলী স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে
ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণাকালে ও ক্ষমতা
হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে জ্যারেড নিজেকে মূল্যবান
সম্পদ ও বিশ্বস্ত উপদেষ্টা হিসেবে প্রমাণ করেছেন এবং আমি আমার প্রশাসনে
তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পেয়ে গর্বিত।’ হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির সদস্য ও
ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতারা তাদের এক যুক্তি দেখান, ১৯৬৭ সালে মার্কিন
কংগ্রেস প্রণীত আইন অনুযায়ী, আত্মীয়স্বজনকে নিজের অধীনে কাজকর্মে নিয়োগে
নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে তার নিয়োগের মাধ্যমে একটি বড় ইস্যু তৈরি হয়েছে।
তারা এও প্রশ্ন তুলেছেন, কিভাবে কুশনার হোয়াইট হাউসে ভূমিকার ক্ষেত্রে
স্বার্থগত দ্বন্দ্ব পুরোপুরি এড়াবেন। বরং হোয়াইট হাউসে তার ভূমিকার কারণে
তিনি এমন কিছু নীতি গ্রহণ করতে প্রভাব খাটাতে পারবেন যা তার ব্যবসাকে
সাফল্যমন্ডিত করবে। তবে কুশনারের আইনজীবী জেমি গৌরলিক বলেন, নৈতিকতা-বিষয়ক
কমিটির সমস্ত নিয়মনীতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুতি নিচ্ছেন কুশনার।
এরই মধ্যে তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি শীর্ষ
উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কুশনার বেতনও নেবেন না।

No comments:
Post a Comment