যুক্তরাষ্ট্রের
বিদায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ভিয়েতনামের মেকং ডেল্টা এলাকা পরিদর্শন
করেছেন, যেখানে তিনি ১৯৬৯ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধে অতর্কিত হামলার শিকার
হয়েছিলেন। মার্কিন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট হিসেবে ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশ নেন
কেরি। এ যুদ্ধে মেকং ডেল্টায় টহল দেয়ার সময় রকেট হামলার শিকার হন তিনি ও
তার সঙ্গীরা। অদম্য সাহস নিয়ে রকেট লাঞ্চার পরিচালনাকারীর ওপর হামলা চালিয়ে
তাকে হত্যা করেন কেরি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সঙ্গীদের বাঁচানোয় তিনি
সাহসিকতার পুরস্কারও পেয়েছিলেন। তবে যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরে তিনি যুদ্ধবিরোধী
প্রচার শুরু করেন। বিবিসির খবরে বলা হয়,
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে
ভিয়েতনামে শেষ রাষ্ট্রীয় সফরে কেরির অনুভূতি একেবারেই অন্যরকম।
সম্মুখযুদ্ধের এক শত্রুর সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। ভিয়েত কংয়ের (ভিয়েতনাম
কংগ্রেস) সদস্য ৭০ বছর বয়সী ভো বান তাম ও কেরি দীর্ঘক্ষণ আলাপ করেন। ভো বান
তাম ১৯৬৯ সালের যুদ্ধের স্মৃতি মনে করিয়ে দেন কেরিকে। তার আগে দু’জনে
সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে করমর্দনও করেন। কেরি তার সাবেক শত্রুকে বলেন, সেই
যুদ্ধে তারা দু’জনেই বেঁচে গিয়েছেন- এটি আনন্দের বিষয়। কেরিকে বর্তমানে
চিংড়ি চাষী তাম বলেন, যখন তাদের টহল জাহাজ লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানো
হচ্ছিল, তখন আপনি সেই রকেট পরিচালনাকারীকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। কেরির
গুলিতে নিহত লোকটির নাম ছিল বা তানহ। তার বয়স ছিল ২৪ বছর। তাম বলেন, ‘তানহ
খুব ভালো সৈনিক ছিলেন।’ কেরি ওই সৈন্যের নাম বা বয়স জানতেন না। ২০০৪ সালে
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে নির্বাচন করার সময় ভিয়েতনাম
যুদ্ধের এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন কেরি। তবে অভিযোগ ছিল,
কেরির গুলিতে নিহত ব্যক্তিটি কিশোর বয়সী ছিলেন। কিন্তু এবারের ভিয়েতনাম সফর
থেকে তিনি পরিষ্কার হলেন, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক যোদ্ধাই ছিলেন।

No comments:
Post a Comment