ফিলিস্তিন
ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপ শুরুর প্রচেষ্টা হিসেবে
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। ৭০ দেশের
প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন এ সম্মেলনে। ফিলিস্তিন-ইরাইলের কয়েক দশকের পুরোনো
সংঘাতের সমাপ্তি টানতে দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধানকে সমর্থন করেছেন প্রতিনিধিরা।
প্যারিস সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিন। কিন্তু ইসরাইল দাবি করছে, এ
সম্মেলন তাদের বিরুদ্ধে হচ্ছে। তারা সম্মেলনের ফলাফল মানবে না। খবর
বিবিসির। দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধান হল ইসরাইল ও ফিলিস্তিন নামে দুটি স্বাধীন
রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা এবং তাদের সহাবস্থান। স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র
হিসেবে ইসরাইল জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেলেও ফিলিস্তিন এখনও তা পায়নি। ২০১৪
সালে দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সংলাপ উত্তেজনাপূর্ণ বাক্যবাণের
কারণে ভণ্ডুল হয়ে যায়। এরপর এ ধরনের প্রচেষ্টা এ প্রথম প্যারিসে দেখা
যাচ্ছে। প্যারিস সম্মেলনে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনকে অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ
করা হয়নি। তবে সম্মেলনের ফলাফল শোনার জন্য ডাকা হয়েছে তাদের। কিন্তু ইসরাইল
এতে অংশ নিচ্ছে না।
গত মাসে জাতিসংঘে ইসরাইলের অধিকৃত ভূমিতে বসতি
স্থাপনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস হওয়ায় ইসরাইল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের
মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই প্যারিস সম্মেলন হচ্ছে। অবশ্য এ জন্য ওবামা
প্রশাসনকে দায়ী করেছে ইসরাইল। কারণ ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রস্তাব পাস
হওয়ার পথ বন্ধ করতে পারত যুক্তরাষ্ট্র, যা তারা বরাবর করে এলেও এবার তা
করেনি। তবে হোয়াইট হাউস অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে,
তারা প্যারিসের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জন কেরি সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলনের ফলাফল গঠনমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ
যেন হয়, সে জন্য কাজ করবেন তিনি। প্যারিস সম্মেলনের খসড়া বিবৃতিতে ইসরাইল ও
ফিলিস্তিনকে দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধান মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করার
আহ্বান জানানো হয়েছে। দুই পক্ষকে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে বলা
হয়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্যারিস সম্মেলনকে
‘ষড়যন্ত্রমূলক সম্মেলন’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, এর মাধ্যমে ফ্রান্সের
পৃষ্ঠপোষকতায় ফিলিস্তিনিরা আরও বেশি ইসরাইলবিরোধী পদক্ষেপ নিতে চায়।
দীর্ঘদিন দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলেও
তাদের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য এ প্রক্রিয়াকে বারবার ভণ্ডুল করে দেয়।
অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতি স্থাপন মেনে নিতে নারাজ
ফিলিস্তিন। এছাড়া ইসরাইলকে একটি ইহুদি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতেও চায় না
তারা। সহিংসতা ছড়ানোর অভিযোগে ও ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলকে মেনে নিতে
না চাওয়ায় তেল আবিব কোনোভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব স্বীকার করতে
চায় না।

No comments:
Post a Comment