Monday, January 23, 2017

ট্রাম্পের অভিষেকে উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেকের সময় লোকজনের উপস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যম মিথ্যাচার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকরা পৃথিবীর সবচেয়ে ‘অসৎ মানুষের অন্তর্গত’ উল্লেখ করে তিনি সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ করছেন’ বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে অভিষেক অনুষ্ঠানের ছবি নিয়ে সাংবাদিকদের কঠোর ভাষায় আক্রমণ করা হয়। এর ফলে সরকারের সঙ্গে মার্কিন গণমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে দ্বন্দ্ব শুরু হল। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের। শনিবার সিআইএ সদরদফতরে দেয়া এক ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘অভিষেক অনুষ্ঠান ও বিক্ষোভকারীদের যে ছবি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা ছিল ভুয়া।’ ট্রাম্পের দাবি, শুক্রবার ১৫ লাখের মতো মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিল। এ সংখ্যাকে মিডিয়াগুলো আড়াই লাখ হিসেবে উল্লেখ করেছে বলে ক্ষোভ জানান তিনি। ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ধারণের সময়ও প্রতারণা করে কম লোক দেখানো হয়েছে বলে তার অভিযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে তার ভাষণের সময় মানুষের উপস্থিতি ওয়াশিংটন মনুমেন্ট পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। অন্যদিকে শনিবার রাতে অস্বাভাবিক এক আক্রমণাত্মক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার শুক্রবারের অভিষেক অনুষ্ঠান চলাকালে টুইটারে দেয়া ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মল এলাকার বিশাল জায়গা খালি দেখানো ছবিগুলোর তীব্র সমালোচনা করেন। সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কয়েক যুগের মধ্যে কোনো অভিষেকে এবারই সবচেয়ে বড় দর্শক সমাগম হয়েছে। এখানে এবং বিশ্বের সব জায়গায় তা হয়েছে। অভিষেকের এ উদ্দীপনাকে খাটো করে দেখানোর উদ্যোগ ভুল এবং লজ্জাজনক।’
কিন্তু ছবি বলছে ভিন্নকথা। ওপর থেকে নেয়া ছবিতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের অভিষেকের সময় ২০০৯ সালের তুলনায় জনসমাগম অনেক কম হয়েছে। বস্তুত হোয়াইট হাউস সংলগ্ন ন্যাশনাল মল প্রায় পুরোটাই ছিল ফাঁকা। ওয়াশিংটন নগর কর্তৃপক্ষের হিসাবে ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অভিষেকের সময় ১৮ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন, যা ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জমায়েত। ট্রাম্পের শপথের সময় ৭ লাখ ২০ হাজার লোক ধারণক্ষমতার ন্যাশনাল মল পরিপূর্ণ ছিল বলে দাবি করেছেন স্পাইসার, তবে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ দেননি তিনি। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জনসমাগমের সরকারি হিসাব প্রকাশ করেনি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘সঠিক সংখ্যা কারও জানা নেই।’ ওয়াশিংটন মেট্রো সাবওয়ে সিস্টেম জানিয়েছে, শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ১ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ মেট্রো ব্যবহার করেছে। ২০০৯ সালে ওবামার অভিষেকের দিন ওই সময়ের মধ্যে ৫ লাখ ১৩ হাজার মানুষ মেট্রো ব্যবহার করেছিল। এদিকে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নারীরা ট্রাম্পবিরোধী যে বিক্ষোভ করেছে তারও তীব্র সমালোচনা করেছেন স্পাইসার। ট্রাম্পবিরোধী নারীরা রাজধানী ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলেও বিক্ষোভ করেছেন। এখানে তাদের উপস্থিতি প্রত্যাশাকেও ছড়িয়ে যায়। ট্রাম্পের অভিষেকে এখানে যত লোক জড়ো হয়েছিলেন তার চেয়ে নারী বিক্ষোভে বেশি উপস্থিত হয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবার বেলা ১১টার মধ্যে ২ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ মেট্রো ব্যবহার করেছে এবং এর সবাই ওয়াশিংটনের কেন্দ্রস্থল ন্যাশনাল মলের দিকে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে মেট্রো সার্ভিস। ওই সময়ই ন্যাশনাল মলে নারীদের ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জনতার সে াত নিয়ন্ত্রণ করতে তাদের হিমশিম খেতে হয়েছে বলেও জানিয়েছে মেট্রো সার্ভিস।
টেলিভিশন দর্শকেও খরা : ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানের টেলিভিশন দর্শকেও ছিল খরা। টেলিভিশনে সরাসরি অনুষ্ঠান দেখেছেন বিশ্বের প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ দর্শক। তবে সদ্যবিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদের শপথে দর্শকের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৮০ লাখ। রেটিং ফার্ম নিলসনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছ, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২টি সম্প্রচার মাধ্যম ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করেছে। এ অনুষ্ঠান দেখেছে ৩ কোটি ৬০ লাখ দর্শক। পূর্বসূরি রিপাবলিকান দলীয় দুই প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও তার বাবা জর্জ এইচডব্লিউ বুশের অভিষেক অনুষ্ঠানের দর্শকের চেয়ে ট্রাম্পের অভিষেকের দর্শক ছিল বেশি। নিলসন বলছে, তারা প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের দায়িত্ব নেয়ার সময় (১৯৬৯) থেকে তথ্য রেকর্ড করে আসছেন; তখন থেকে এখন পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে ওবামার অভিষেক অনুষ্ঠানের দর্শক সংখ্যা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ১৯৮১ সালে রোনাল্ড রিগ্যানের শপথ অনুষ্ঠান টেলিভিশনে সরাসরি দেখেছিলেন প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ দর্শক।

No comments:

Post a Comment