Thursday, January 5, 2017

'আগামী নির্বাচন গতবারের মতো হবে না'

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে এমন ঈঙ্গিত দিয়ে দলীয় নেতাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। নেতা, মন্ত্রী ও এমপিদের জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন গত নির্বাচনের মতো হবে না। যার যার এলাকায় কাজ করুন, নির্বাচনে জিততে হবে।
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসবভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ এবং উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে দলীয় নেতাদের এসব নির্দেশ দেন তিনি। তার সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয়ে এ বৈঠক প্রায় রাত ৯টা পর্যন্ত চলে। বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। দলীয় নেতাদের ঐক্যের ওপরও জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে নেতাদের সাবধান করে দেন এ বলে যে, পরকে যেন কেউ আপন না ভাবেন, নিজেদের লোকদেরই আপন করে নিতে বলেন তিনি। যে কোনো নির্বাচনে দল মনোনীতদের পাশে থাকার পাশাপাশি জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহীরা কেন জিতল সে বিষয়ে খোঁজ নিতেও বলেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেবে আওয়ামী লীগ। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করা হবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রস্তাব ও সুপারিশমালা তৈরির জন্য ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচটি ইমাম কমিটির আহ্বায়ক এবং ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, মো. রশিদুল আলম, মো. জমির,
অ্যাডভোকেট মো. আবদুল বাসেত মজুমদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আবদুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আইনবিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতিন খসরু এর সদস্য নির্বাচিত হন। এই কমিটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাব ও সুপারিশমালা প্রণয়ন করে সংগঠনের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করবে। ১১ জানুয়ারি বুধবার বিকাল ৪টায় নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের মতবিনিময়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে। এসভায় দলের পক্ষে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত হয়। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের ওপরই ভরসা রাখবে। জামায়াতবিরোধিতার কারণেই গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে জীবন দিতে হয়েছে বলে সভায় মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, লিটনের ওপরে জামায়াতের একটা ক্ষোভ সব সময় ছিল।  ওর ওপর বেশ কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। অবশেষে তারা সেই হত্যাকাণ্ড ঘটাল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুন্দরগঞ্জে লিটন আমাদের ছাত্রলীগের কর্মী ছিল। পরে সে ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করতে যায়। সেখান থেকে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা নিয়ে আসে। এরপর সে আওয়ামী লীগ করা শুরু করে। থানার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়। এরপর আমরা তাকে মনোনয়ন দেই। ওর ওপরে কিন্তু বারবার হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, একটা জিনিস আমার খুব খারাপ লাগছে ভাবতে। মাঝখানে একটা ঘটনা ঘটে গেল। একটা বাচ্চা ওর গুলিতে আহত হয়। সেটা নিয়ে পত্রপত্রিকা এমনভাবে লেখালেখি করল কিন্তু সেখানে ঘটনাটি যেটা ঘটল সেটা কেউ তুলে ধরল না। ওকে মারার জন্য কেউ অ্যামবুশ করেছিল। যেহেতু ও সংসদ সদস্য ছিল। লাইসেন্স করা অস্ত্র ছিল। তাই ও কোনোমতে সেখান থেকে বেঁচে আসে। শেখ হাসিনা বলেন, ওই সময় গোলাগুলিতে এক ছেলে আহত হয়। সেও আমাদের আওয়ামী লীগের কর্মীর ছেলে।
কিন্তু সেটাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে এমনভাবে লেখা হয় যে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ফলে তার লাইসেন্স কেড়ে নেয়া হয়। অস্ত্রটা নেয়ার পর থেকে সে খুব একটা আতংকে থাকত। যে কোনো মুহূর্তে তাকে আক্রমণ করবে। ঠিক সেই ঘটনাটাই ঘটল। বাসার মধ্যে ঢুকে ওকে হত্যা করল। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। আন্দোলন করে সফল হয়নি। তাই এখন গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে। এটা তো বিএনপি-জামায়াতের একটা চরিত্রই। ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি ছাত্রলীগ করতাম, কিন্তু সবসময় পদবঞ্চিত ছিলাম। ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কমিটির সবাইকে শুভেচ্ছা। বৈঠকে শেখ হাসিনা ছাড়া উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, এইচটি ইমাম, রাশিদুল আলম এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বক্তব্য দেন। এইচটি ইমাম বিএনপি যেসব নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিল তারা এখনও ইসিতে কাজ করছেন উল্লেখ করে বলেন, এ নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। রাশিদুল আলম বলেন, আরপিও অনুযায়ী নিবন্ধন বজায় রাখতে হলে বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে আসতেই হবে। আর সৈয়দ আশরাফ সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতিকে প্রস্তাব দেয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন।

No comments:

Post a Comment