বাংলাদেশে
ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার জলসা, স্টার প্লাস ও জি বাংলার সম্প্রচার
বন্ধে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই আদেশের ফলে বাংলাদেশে
ওই তিন চ্যানেলের সম্প্রচারে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। আজ
রোববার এ রায় দেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের
হাইকোর্ট বেঞ্চ। গত ২৫ জানুয়ারি এ তিন চ্যানেল বন্ধে জারি করা রুলের
শুনানি শেষে ২৯ জানুয়ারি রায়ের দিন ধার্য করেন। এর আগে ০৮ জানুয়ারি থেকে
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া। স্টার জলসা ও
স্টার প্লাসের বাংলাদেশের পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠান ডিজি জাদু ব্রডব্যান্ড
লিমিটেডের পক্ষে আইনজীবী আব্দুল মতিন খসরু এবং জি বাংলার বাংলাদেশের
পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশন ওয়াইড মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে শুনানি করেন
ব্যারিস্টার সামসুল হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল
মোতাহার হোসেন সাজু। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে রোজার ঈদকে সামনে রেখে স্টার
জলসার ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিরিয়ালের পাখি চরিত্রের নামে পোশাক কিনতে না
পেরে বাংলাদেশে অনেকে আত্মহত্যা করেন।
এ নিয়ে পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত
হয়। এ বিষয়ে ওই বছরের আগস্ট মাসে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি রিট
করেন আইনজীবী সৈয়দা শাহীন আরা লাইলী। তখন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও
বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ উত্থাপিত
হয়নি মর্মে আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপর আবার নতুন করে আবেদন করা হয়। সে
আবেদনের শুনানি নিয়ে একই সালের ১৯ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে
বাংলাদেশে ভারতীয় তিনটি টিভি চ্যানেলের (স্টার জলসা, স্টার প্লাস ও জি
বাংলা) সম্প্রচার বন্ধে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চান
হাইকোর্ট। ২০১৪ সালে আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেছিলেন, ভারতে
বাংলাদেশের কোনো টিভি চ্যানেল প্রচার হয় না। অথচ বাংলাদেশে ভারতীয় টিভি
চ্যানেলের অবাধ সম্প্রচারের ফলে যুব সমাজ ধ্বংসের সম্মুখীন। সর্বশেষ তাদের
একটি টিভি চ্যানেল স্টার জলসার ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিরিয়ালের পাখি
চরিত্রের নামে পোশাক কিনতে না পেরে বাংলাদেশে অনেকে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি
বলেন, একটি দৈনিকে এ নিয়ে ‘পাখি প্রেমে প্রাণ বিসর্জন’ শিরোনামে একটি
প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দেশের ঘরে-ঘরে বাড়ছে
ভারতীয় ধারাবাহিক নাটকের জনপ্রিয়তা। এসব সিরিয়াল প্রীতির কারণে দেশের
টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ক্রমেই দর্শক হারাচ্ছে, দেশ হারাচ্ছে নিজস্ব
সংস্কৃতি। কিশোরী-তরুণীদের ফ্যাশনেও এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে’।

No comments:
Post a Comment