Monday, January 30, 2017

আপনি আমি সমান সমান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। শনিবার এক টেলিফোন আলাপে ট্রাম্প পুতিনকে বলেন, ‘আপনি আমি সমান সমান। আমরা নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগযোগ রাখব। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমরা সত্যিকার সহযোগিতার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করব।’ শনিবার বিভিন্ন প্রসঙ্গে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলাপ করেন দুই নেতা।
তবে তাদের আলাপের বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ক্রেমলিন যে বিবৃতি দিয়েছে তাতে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কোনো আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ নেই। খবর রয়টার্স ও ডেইলি মেইলের। এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, শনিবার দু’নেতার মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ট্রাম্প-পুতিনের এ ফোনালাপ ‘তাৎপর্যপূর্ণ সূচনা’। এর ফলে উভয় পক্ষ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে বলে উভয় প্রেসিডেন্ট আশাবাদী। শিগগিরই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসা এবং নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগাযোগ রাখার বিষয়েও তারা সম্মত হয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্টের দফতর ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, কথোপকথনে সন্ত্রাসবাদ দমনের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। সিরিয়ায় আইএসসহ অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দমনের বিষয়টি আলোকপাত করেছেন দু’নেতা। ক্রেমলিনের মতে, এ আলোচনা ছিল ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’। এ সময় উত্তর কোরিয়া, ইউক্রেন এবং ইরান ইস্যুতেও তাদের কথা হয়েছে। ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে চান।
এর আগে ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রুশ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারে ট্রাম্পের পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখব সামনে কী ঘটে? আমরা সব দেশের সঙ্গেই যতটা সম্ভব সুসম্পর্ক চাই।’ এর পর অনেকেই মনে করেছিলেন, ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এ ফোনকলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসবে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প ছিলেন নিশ্চুপ। পুতিনের পক্ষ থেকেও কিছু জানতে চাওয়া হয়নি। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শেষ সময়ে দুদেশের সম্পর্কে উত্তেজনা দেখা দেয়। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে শাস্তি হিসেবে মার্কিন মুলুকে কর্মরত ৩৫ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেন ওবামা।

No comments:

Post a Comment