Wednesday, January 18, 2017

এমপি রানার জামিন নিয়ে হাইকোর্টের রুল

টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় এমপি আমানুর রহমান রানাকে কেন জামিন দেয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার সকালে বিচারপতি শেখ আবদুল আওয়াল ও বিচারপতি মোহম্মদ খসরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রুলে বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি শহরের কলেজপাড়া এলাকার নিজ বাসার কাছে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। পরে তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। মামলার পর প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে ডিবি পুলিশ তদন্ত শুরু করেন। ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে এ মামলার আসামি আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় যে, এমপি রানা ও তার তিন ভাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের নির্দেশেই অন্যান্য আসামি ফারুককে গুলি করে হত্যা করে বাসার কাছে ফেলে রাখে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী থেকে ফারুক আহমেদকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বলেছিলেন রানা। কারণ তার ছোট ভাই টাঙ্গাইল পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান (মুক্তি) ছিলেন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় অভিযোগপত্র দায়ের করে। আদালত এপ্রিল মাসে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। অভিযোগপত্রে আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাইসহ মোট ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এমপি আমানুর রহমান খান রানার অপর তিন ভাই হলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাকন) ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান (বাপ্পা)। গেল বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত এমপি আমানুর রহমান রানাকে জেল হাজতে পাঠায়। এরপর ১৬ জানুয়ারি তাকে ও তার তিনভাইকে বহিষ্কার করে জেলা আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে আজ রানার জামিন নিয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।

No comments:

Post a Comment