রিয়েল
এস্টেট ব্যবসায়ী থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিউইর্কের ট্রাম্প টাওয়ার থেকে তিনি ওঠে এসেছেন হোয়াইট হাউসে। শুক্রবারই
আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করলেন তিনি। ধনকুবের থেকে বিশ্বের সবচেয়ে
ক্ষমতাধর দেশের প্রেসিডেন্ট হয়ে উঠতে ট্রাম্পের এই গল্পটা বেশ লম্বা।
জন্ম
ও বেড়ে ওঠা : ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন নিউইয়র্কের কুইন্সে জন্মগ্রহণ করেন
ট্রাম্প। পুরো নাম ডোনাল্ড জন ট্রাম্প। নিউইয়র্কের ধনকুবের ব্যবসায়ী ফ্রেড
ট্রাম্পের চতুর্থ সন্তান তিনি। পরিবারের অগাধ অর্থ-সম্পদ থাকা সত্ত্বেও
বাবার প্রতিষ্ঠানে তাকে সবচেয়ে নিচু স্তরে কাজ করতে হয়। স্কুলে দুষ্টামি আর
উচ্ছৃংখল আচরণের জন্য ১৩ বছর বয়সেই তাকে সামরিক একাডেমিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এরপর তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়ার্টন স্কুলে লেখাপড়া করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, বাবার প্রতিষ্ঠানে যোগ দেয়ার আগে তিনি নিজেই
১০ লাখ ডলার ঋণ নিয়ে আবাসন ব্যবসা শুরু করেন। তিনি নিউইয়র্ক শহরের বিভিন্ন
পৌর এলাকায় ছড়ানো তার বাবার বিপুল আবাসিক সম্পত্তি দেখাশোনার কাজেও সহায়তা
করতেন। ক্রমে তিনি বাবার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন এবং ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠানের
নাম দেন ‘ট্রাম্প অর্গানাইজেশন’। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম এ প্রেসিডেন্টের
বাবা মারা যান ১৯৯৯ সালে। মা মেরি ট্রাম্প ছিলেন স্কটিশ বংশোদ্ভূত মার্কিন।
ডোনাল্ড বলেন, বাবাই আমার অনুপ্রেরণা।
ধনপতির
সাম্রাজ্য : ব্রুকলিন আর কুইন্স এলাকার আবাসিক ভবন কেনাবেচার পারিবারিক
ব্যবসাকে ট্রাম্প নিয়ে যান অন্য মাত্রায়। ম্যানহাটনের অভিজাত এলাকায়
বিভিন্ন ভবন প্রকল্প গড়ে তোলেন তিনি। ভগ্নদশা কমডোর হোটেল ভেঙে তৈরি করেন
গ্র্যান্ড হায়াত হোটেল এবং ম্যানহাটনের অভিজাত রাস্তায় নির্মাণ করেন তার
সবচেয়ে চোখ ধাঁধানো ৫৮ তলা ভবন- ট্রাম্প টাওয়ার। নিজের নাম দিয়ে আরও বহু
বিখ্যাত ভবন তিনি গড়ে তোলেন। তার অতি পরিচিত কয়েকটি ভবনের মধ্যে রয়েছে
ট্রাম্প প্লেস, ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড টাওয়ার, ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল
অ্যান্ড টাওয়ার। এমনকি মুম্বাই, ইস্তাম্বুল এবং ফিলিপাইনেও তিনি তৈরি
করেছেন ট্রাম্প টাওয়ার। তার অসংখ্য হোটেল ও জুয়া খেলার ক্যাসিনোর মধ্যে
কিছু কিছু প্রকল্পে লালবাতিও জ্বলেছে, যেগুলোকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়।
বিনোদন ব্যবসাতেও তিনি নিজস্ব রাজত্ব গড়ে তোলেন। ১৯৯৬ থেকে ২০১৫ সাল
পর্যন্ত মিস ইউনিভার্স,
মিস ইউএসএসহ
বিভিন্ন সুন্দরী প্রতিযোগিতার মালিক ছিলেন তিনি। ২০০৩ সালে এনবিসি
টেলিভিশনে তিনি চালু করেন দারুণ জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘অ্যাপ্রেনটিস’। এ
শো’তে বিজয়ীকে ট্রাম্প তার প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনার উচ্চ পদে কাজ করার
সুযোগ দেন। তার আর্থিক হিসাবে দেখা গেছে, শুধু ওই শো’র জন্য টেলিভিশন
নেটওয়ার্ক তাকে দেয় ২১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তিনি বেশ কিছু বইও লিখেছেন।
ব্যবসায় টাই থেকে বোতলে ভরা পানি সবই বিক্রি করেন তিনি। ফোর্বসের তৈরি
ধনীদের তালিকা অনুযায়ী ট্রাম্পের সম্পদের পরিমাণ ৩৭০ কোটি ডলার। যদিও
ট্রাম্প অনেকবার জোর দিয়ে বলেছেন, তার সম্পদের পরিমাণ আসলে এক হাজার কোটি
ডলার।
স্বামী ও বাবা : ১৯৬৪-৬৮ সালে বাণিজ্যে পড়াশোনা শেষ করেন ট্রাম্প। বিয়ে করেছেন তিনবার। এদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ছিলেন তার প্রথম স্ত্রী ইভানা জেলনিকোভা চেক অ্যাথলেট এবং মডেল। তাদের তিন সন্তান- ডোনাল্ড জুনিয়র, ইভাংকা এবং এরিক। ১৯৯০ সালে তাদের বিয়ে ভেঙে যায়। বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে তাদের আদালতে লড়াই বিভিন্ন ট্যাবলয়েডে ছিল মুখরোচক খবর। এসব খবরে ছিল ট্রাম্প তার স্ত্রী ইভানাকে নির্যাতন করতেন। যদিও ইভানা পরে বলেন, তাদের বিষয়ে অতিরঞ্জিতভাবে খবর প্রকাশ করা হয়। ১৯৯৩ সালে তিনি মারলা মেপলসকে বিয়ে করেন। তাদের কন্যা সন্তানের নাম টিফানি। দ্বিতীয় ওই বিয়েও ভেঙে যায় ১৯৯৯ সালে। এরপর ২০০৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিয়ে করেন তার বর্তমান স্ত্রী, মডেল মেলানিয়া ক্লাউসকে। তাদের ব্যারন উইলিয়াম ট্রাম্প নামে পুত্র সন্তান আছে। তার প্রথম বিয়ের সন্তানরা ‘ট্রাম্প অর্গানাইজেশন’ সংস্থা পরিচালনায় তাকে এখন সহায়তা করেন, যদিও সংস্থার সর্বোচ্চ পদে ট্রাম্পই আছেন।
প্রার্থিতা : ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ানোর জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন ১৯৮৭ সালে। ১৯৮৭-৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি রিপাবলিকান দলে ছিলেন। এমনকি রিফর্ম পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও নামেন ২০০০ সালে। এ পার্টিতে তিনি ছিলেন ১৯৯৯-২০০১ পর্যন্ত। ২০০১-০৯ সময়ে তিনি পুনরায় ডেমোক্রেটিক পার্টিতে আসেন। ২০১২ সালে তিনি রিপাবলিকান দলে প্রত্যাবর্তন করেন। ২০০৮ সালের পর থেকে তিনি একটি আন্দোলন শুরু করেন, যার মূল বিষয় ছিল বারাক ওবামার জন্ম আমেরিকায় কিনা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্মগত অধিকার তার আছে কিনা। পরে অবশ্য এ আন্দোলন থিতিয়ে পড়ে- যখন প্রমাণিত হয়, বারাক ওবামার জন্ম আমেরিকার হাওয়াইয়ে। ট্রাম্প বিষয়টা মেনে নেন, কিন্তু স্বভাবগতভাবে কখনোই তিনি এ প্রসঙ্গ নিয়ে আন্দোলনের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেননি।
স্বামী ও বাবা : ১৯৬৪-৬৮ সালে বাণিজ্যে পড়াশোনা শেষ করেন ট্রাম্প। বিয়ে করেছেন তিনবার। এদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ছিলেন তার প্রথম স্ত্রী ইভানা জেলনিকোভা চেক অ্যাথলেট এবং মডেল। তাদের তিন সন্তান- ডোনাল্ড জুনিয়র, ইভাংকা এবং এরিক। ১৯৯০ সালে তাদের বিয়ে ভেঙে যায়। বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে তাদের আদালতে লড়াই বিভিন্ন ট্যাবলয়েডে ছিল মুখরোচক খবর। এসব খবরে ছিল ট্রাম্প তার স্ত্রী ইভানাকে নির্যাতন করতেন। যদিও ইভানা পরে বলেন, তাদের বিষয়ে অতিরঞ্জিতভাবে খবর প্রকাশ করা হয়। ১৯৯৩ সালে তিনি মারলা মেপলসকে বিয়ে করেন। তাদের কন্যা সন্তানের নাম টিফানি। দ্বিতীয় ওই বিয়েও ভেঙে যায় ১৯৯৯ সালে। এরপর ২০০৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিয়ে করেন তার বর্তমান স্ত্রী, মডেল মেলানিয়া ক্লাউসকে। তাদের ব্যারন উইলিয়াম ট্রাম্প নামে পুত্র সন্তান আছে। তার প্রথম বিয়ের সন্তানরা ‘ট্রাম্প অর্গানাইজেশন’ সংস্থা পরিচালনায় তাকে এখন সহায়তা করেন, যদিও সংস্থার সর্বোচ্চ পদে ট্রাম্পই আছেন।
প্রার্থিতা : ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ানোর জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন ১৯৮৭ সালে। ১৯৮৭-৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি রিপাবলিকান দলে ছিলেন। এমনকি রিফর্ম পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও নামেন ২০০০ সালে। এ পার্টিতে তিনি ছিলেন ১৯৯৯-২০০১ পর্যন্ত। ২০০১-০৯ সময়ে তিনি পুনরায় ডেমোক্রেটিক পার্টিতে আসেন। ২০১২ সালে তিনি রিপাবলিকান দলে প্রত্যাবর্তন করেন। ২০০৮ সালের পর থেকে তিনি একটি আন্দোলন শুরু করেন, যার মূল বিষয় ছিল বারাক ওবামার জন্ম আমেরিকায় কিনা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্মগত অধিকার তার আছে কিনা। পরে অবশ্য এ আন্দোলন থিতিয়ে পড়ে- যখন প্রমাণিত হয়, বারাক ওবামার জন্ম আমেরিকার হাওয়াইয়ে। ট্রাম্প বিষয়টা মেনে নেন, কিন্তু স্বভাবগতভাবে কখনোই তিনি এ প্রসঙ্গ নিয়ে আন্দোলনের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেননি।
ট্রাম্প
২০১৫ সালের জুনে প্রথম প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আনুষ্ঠানিক
ঘোষণা দেন। ২০১৬ সালের মে মাসে তিনি রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পান। তার সঙ্গে
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের লড়াই হয় ৮ নভেম্বর।
ট্রাম্প বলেন, আমরা এমন একজনকে ক্ষমতায় চাই যিনি আক্ষরিক অর্থে এ দেশকে
আবার মহান করে তুলবেন। আমরাই তা করতে পারব। আমেরিকাকে আবার মহান করুন- এ
স্লোগান দিয়ে তিনি প্রচারে নামেন। তার প্রচারে আমেরিকার অর্থনীতিকে
শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি যেমন তিনি দেন, পাশাপাশি মেক্সিকো আর
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দেয়াল তুলে এবং মুসলমানদের অভিবাসন সাময়িকভাবে বন্ধ
করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেন।

No comments:
Post a Comment