যুক্তরাষ্ট্রের
নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিষেক
অনুষ্ঠানের আগেই হবু ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের চেয়ে নজর কেড়েছেন
ফার্স্ট ডটার ইভাঙ্কা ট্রাম্প। ট্রাম্পের শপথের আগের দিন ওয়াশিংটন ডিসির
লিংকন মেমোরিয়ালে কনসার্টে জাঁকজমক উপস্থিতি ছিল ইভাঙ্কার। টিউলিপ আকৃতির
পাড় দেয়া সবুজ জামার সঙ্গে ম্যাচিং কোর্ট পরেছিলেন তিনি। পরিবারের সব
সদস্যের মধ্যে ইভাঙ্কার চালচলন ছিল নেতৃত্বসুলভ। তার পাশে অনেকটা নিরীহ হয়ে
দাঁড়িয়েছিলেন মেলানিয়া। ইউএসএটুডে জানিয়েছে,
হবু ফার্স্টলেডি হিসেবে
ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সময় মেলানিয়ার যেসব দায়িত্ব পালন করার কথা
ছিল তার বেশিরভাগই পালন করতে দেখা গেছে ইভাঙ্কাকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে
করছেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি গ্রহণ করার পর ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কাকেও
নানা রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেননা একজন ফার্স্টলেডির বেশ কিছু
ছায়া আছে তার মধ্যে। ফার্স্টলেডির যোগ্য কন্যা বলা যেতে পারে। কেউ কেউ মনে
করেন, মেলানিয়াকে বাদ দিয়ে ইভাঙ্কাকেই কার্যত ফার্স্টলেডি বানাবেন ট্রাম্প।
ইতিমধ্যে ইভাঙ্কার স্বামী জারেড কুশনারকে হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা
বানিয়েছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার লিংকন মেমোরিয়ালের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ইভাঙ্কা
ট্রাম্প আমেরিকানদের উদ্দেশে বলেন, ‘বাবাকে একটি বার সুযোগ দিন। তাকে
দায়িত্ব নিতে দিন। কাজ করার মতো যথেষ্ট সময় দিন।’ অতিশয় বিতর্কিত বিষয়গুলো
ট্রাম্প এড়িয়ে যাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইভাঙ্কা। ওই মঞ্চে হবু
ফার্স্টলেডি মেলানিয়া (৪৬) তার সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বলেন, ‘আগামীকাল আমরা
কাজে নামছি।’ কিছু কিছু গণমাধ্যম ইভাঙ্কাকে ‘প্রক্সি ওয়াইফ’ হিসেবে উল্লেখ
করেছেন। কারণ রিপাবলিকান নমিনেশন পাওয়ার পর ট্রাম্পকে সবার কাছে পরিচিত
করেন ইভাঙ্কা-মেলানিয়া নয়।
ট্রাম্পও নিজের বার্তা ছড়িয়ে দিতে মেয়েকেই বেশি
পছন্দ করতেন। সোস্যাল মিডিয়াতে বেশ সরব ইভাঙ্কা। সেখানে তার ফলোয়ার ১৫ লাখ
আর মেলানিয়ার মাত্র ১২ হাজার ৫০০। প্রচারণার সময়গুলোতে সেখানে নিজের
পরিবারের ছবি ও সুন্দর সুন্দর কোটেশন শেয়ার করেন ইভাঙ্কা। গর্ভকালীন
অবস্থাতেও মাইলের পর মাইল ভ্রমণ করে প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। একজন সফল
ব্যবসায়ী নারী ও মা হিসেবে তিনি সব নারী ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিপক্ষে
চলে যাওয়া নারী ভোটারদের সামলান ৩৫ বছর বয়সী ইভাঙ্কাই। নিজস্ব ক্যারিয়ারের
ক্ষেত্রেও বেশ সফল ট্রাম্পকন্যা। ভাই এরিক ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রকে
ট্রাম্প অর্গানাইজেশন এবং ট্রাম্প হোটেল চালাতে সহায়তা করেন তিনি।
পারিবারিক ব্যবসাতেও প্রধানের মতো দায়িত্ব পালন করেন। কোম্পানির বড় বড়
বেশকিছু চুক্তিও নিয়ন্ত্রণ করেছেন ইভাঙ্কা। নিজের একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডও
চালান তিনি। যেটার লক্ষ্যই হল কর্মজীবী নারীদের নিয়ে কাজ করা।

No comments:
Post a Comment