জাতিসংঘ
মানবিক ত্রাণবিষয়ক কর্মকর্তা জেমস ম্যাকগোল্ডরিক জানিয়েছেন, ইয়েমেনে প্রায়
২ বছরের সংঘাতে ১০ হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও
অন্তত ৪০ হাজার মানুষ। মঙ্গলবার জাতিসংঘ মানবিক ত্রাণবিষয়ক দফতর থেকে এক
বিবৃতিতে এ তথ্য দেন জেমস। এর আগে সোমবার ইয়েমেনের বন্দর নগর আদেনে
জাতিসংঘের দূত ইসমাইল ওউলদ শেখ আহমদ দেশটির প্রেসিডেন্ট আব্দরাব্বু মনসুর
হাদির সঙ্গে সাক্ষা?ৎ করেও এ তথ্য জানান। আহমদ বলেন, যুদ্ধাহতদের সেবা
দেয়ার তালিকা দেখে এ সংখ্যা নিরূপণ করা হয়েছে এবং সঠিক সংখ্যা আরও বেশি হতে
পারে। খবর এএফপি, আল-জাজিরার। ইয়েমেনে ২০১৫ সালের মার্চ থেকে হুথি
বিদ্রোহী ও সৌদি জোটের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। জাতিসংঘ জানায়, সৌদি জোটের
হস্তক্ষেপের পর থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি এতটাই করুণ
যে ?অন্তত ১ কোটি মানুয়ের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। এই প্রথমবারের
মতো ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করল জাতিসংঘ।
নিউইয়র্ক
থেকে জাতিসংঘের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, কোন সময়ক্ষেপণ না করে এ
সংঘাত নিরসন জরুরি হয়ে পড়েছে। ইয়েমেনের শান্তির জন্য রোডম্যাপ তৈরি করেছেন
ওউল্দ শেখ আহমেদ। প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদি ওই রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যান করলেও
নতুন করে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করছেন শেখ আহমেদ। চলতি মাসের শেষের
দিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইয়েমেন শান্তি প্রক্রিয়া ইস্যুতে তার
প্রস্তাবিত প্রতিবেদন দাখিল করতে যাচ্ছেন তিনি। ওই রোডম্যাপে ইয়েমেনে নতুন
জোট সরকার গঠন এবং রাজধানী ও অন্যান্য বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে
বিদ্রোহীদের সরে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে শেখ আহমেদ বলেন,
সুবিন্যাস্ত শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সর্বদলীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনার সমন্বয়ে
এটি একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি। বর্তমানে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে
‘প্রতিদিনের মৃত্যু ও ধ্বংসলীলা’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

No comments:
Post a Comment