বিচার
শেষ না হওয়া দুই হত্যা মামলায় একযুগের বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা দুই
বন্দীর মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ দেয়া হয়।
যেদিন তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হবে, সেদিন থেকে ১৫ দিনের মধ্যে
পরীক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। আজ
রোববার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত
হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন। লিগ্যাল এইডের আইনজীবী কুমার দেবুল দে
জানান, পিতৃহত্যার অভিযোগে করা মামলায় ২০০১ সাল থেকে শফিকুল ইসলাম স্বপন
কারাগারে আছেন। স্ত্রী ও মা হত্যার অভিযোগে ২০০৩ সালের ২৯ জুন থেকে সাবেত
আলী কারাগারে আছেন। তাঁরা দুজন মানসিক প্রতিবন্ধী।
দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা
কারাগারে আছেন। এ নিয়ে বেসরকারি একটি টেলিভিশনে খবর প্রচারিত হয়। পরে
সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের পক্ষে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন এই আইনজীবী।
চলতি মাসে আদালত রুল দেন এবং হাইকোর্ট কিশোরগঞ্জের কারাগার কর্তৃপক্ষকে
তাঁদের হাজিরার জন্য নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ তাঁদের হাজির করা
হয়। শুনানি নিয়ে আদালত আদেশ দেন। পরে আদালতে থেকে বেরিয়ে এই আইনজীবী বলেন,
প্রতিবেদনে যদি দেখা যায় সাবিত আলী মানসিক প্রতিবন্ধী নন, তাহলে তাঁর
মামলাটি ছয় মাসের মধ্যে এবং সফিকুলের মামলাটি দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর যদি তাঁরা মানসিক প্রতিবন্ধী হন, তাহলে আইন
অনুসারে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন আদালত। তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৫
ধারা অনুসারে বিচার স্থগিত করে আদালত চিকিৎসার জন্য পাঠাবেন—সেটি বাবা-মা
বা সেফ হোমে হতে পারে। সুষ্ঠু হলে এরপর তাঁর বিচার শুরু হবে। ওই দুই মামলা
সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

No comments:
Post a Comment