ইংরেজি
মাধ্যমের স্কুলশিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ
অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের
শুনানি পিছিয়ে এক সপ্তাহের জন্য মুলতবি করা হয়েছে। আজ রোববার প্রধান
বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের
বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি মুলতবি করেন। এ সময়
পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে বলে
জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এর আগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে জাতীয় রাজস্ব
বোর্ডের (এনবিআর) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ জানুয়ারি আপিল বিভাগ হাইকোর্টের
রায় ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করে এ সময়ের মধ্যে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে
বলেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি তালিকায় আসে।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে
ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও এম মনজুর আলম। এ বিষয়ে এস এম
মনিরুজ্জামান বলেন, হাইকোর্টের রায়ের অনুলিপি না পাওয়ায় লিভ টু আপিল করার
জন্য এক সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়। আদালত এক সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবি
করেছেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের রায়ের স্থগিতাদেশের মেয়াদ এক সপ্তাহ বাড়ানো
হয়েছে। আগামী সপ্তাহে শুনানি হতে পারে। দেশের ইংরেজি মাধ্যমের ১০২টি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বেতনের ওপর ২০১২ সালে সাড়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট
আরোপ করা হয়। এরপর বাজেটে তা বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়, এর আওতায় আনা হয়
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে
নামলে তাঁদের ক্ষেত্রে ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। ভ্যাট
বাতিলের দাবিতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করেন ইংরেজি মাধ্যমের
স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা।
এ অবস্থায় গত বছর সেপ্টেম্বরে
সানিডেল ও সান বিম স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক হাইকোর্টে একটি রিট
আবেদন করেন। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের
একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুল দেওয়ার পাশাপাশি ভ্যাট আরোপ স্থগিতাদেশ দেন। রিট
আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছর ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ইংরেজি মাধ্যমের
স্কুলে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ অবৈধ
ঘোষণা করে রায় দেন। এই রায় স্থগিত চেয়ে এনবিআর আবেদন করলে ১৪ ডিসেম্বর
চেম্বার বিচারপতি বিষয়টি ২ জানুয়ারি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির
জন্য পাঠান।

No comments:
Post a Comment