Wednesday, January 18, 2017

নড়াইলের হাট-বাজারে আমন ধান বেচাকেনার ধুম

নড়াইলে রোপা আমন ধানকাটা শেষ হয়েছে প্রায় সপ্তাহ দুয়েক আগে। এখন বিভিন্ন হাটবাজারে পুরোদমে ধান বেচাকেনা চলছে। এ বছর ধান, খড় ও চালের দাম ভালো পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা। আমন ধানের ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকেরা বোরো ধানচাষে ঝুঁকেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নড়াইলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমান ধান আবাদের পাশাপাশি ফলনও ভালো হয়েছে। জেলায় ৩০ হাজার ৭৭ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৩৩ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে। এর বিপরীতে ফলন হয়েছে ৮৭ হাজার ১১৩ মেট্রিক টন ধান। এখন বিভিন্ন হাটবাজারে ধান ও চালের জমজমাট বেচাকেনা চলছে। প্রতিমণ সুগন্ধিযুক্ত চিকন ধান বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা এবং মোটা জাতের ধান ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। বিভিন্ন জাতের ধান কিনে পাইকারি ব্যবসায়ীরা মজুদ রাখার পাশাপাশি ট্রাকে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন জেলায়। এক্ষেত্রে পাইকারি ব্যবসায়ীরাও বেশ লাভবান হচ্ছেন। লোহাগড়া উপজেলার এড়েন্দা হাটের ধানবিক্রেতা শাহাদাত হোসেন ও ইকবাল মোল্যা জানান, চিকন জাতের সুগন্ধি ধান ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। মোটা জাতের আমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। গত বছর মোটা জাতের প্রতিমণ ধান বিক্রি হয়েছিল ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। নড়াইলের রূপগঞ্জ বাজারের চাল ব্যবসায়ী নিশিত কুন্ডু বলেন, ধানের দাম ভালো হওয়ায় চালও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৩ থেকে ৩৫ এবং চিকন চাল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। এদিকে,
ধান ও চালের দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমজীবীসহ নি¤œআয়ের লোকজন। লোহাগড়ার আমাদা গ্রামের নাসির শেখ বলেন, দাম বেশি হওয়ায় আমাদের মতো গরিব মানুষের ধান ও চাল কিনে খেতে কষ্ট হচ্ছে। খড় বা বিছালীও (গরুর খাবার) উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগে ১২৮০ মুষ্ঠি বিছালী ৩ হাজার টাকায় কিনেছি। এড়েন্দা হাটের ধান ব্যবসায়ী আমাদা গ্রামের রাসেল শেখ জানান, প্রতিমণ পোলাও ধান ১২০০ টাকা, স্বর্ণা ধান প্রতিমণ ৭৬০ থেকে ৭৮০ টাকা এবং আমন ৭২০ টাকা, বিনা-৭ ও ২৮ ধান ৮২০ টাকা পর্যন্ত কিনেছেন তিনি। নড়াইল সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, সরকার নির্ধারিত ৩৩ টাকা কেজি দরে জেলায় ৬১৪ মেট্রিক টন আমন চাল সংগ্রহ অভিযান চলছে। গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া চাল সংগ্রহ অভিযান মার্চে শেষ হবে। নড়াইলের ৬৩ জন মিল মালিকের কাছ থেকে এ চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপ-পরিচালক শেখ আমিনুল হক বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মওসুমে (২০১৫-১৬) লক্ষ্যমাত্রা চেয়েও ৩ হাজার ১৮ হেক্টর বেশি জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়। এক্ষেত্রে কৃষকের ঘরে ৮৭ হাজার ১১৩ মেট্রিক টন ধান উঠেছে। আমন ধানের সাফল্যের পর কৃষকেরা বোরো ধানচাষে ঝুঁকেছেন। ৪২ হাজার ১৩৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫০০ হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো রোপন হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে কৃষকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে বোরো ধান রোপন করতে পারবেন বলে আশা করছি।

No comments:

Post a Comment