Wednesday, January 18, 2017

টাকা ছাড়া চলেনা উজিরপুর সেটেলমেন্ট কর্তাদের কলম

দূর্নীতিবাজ অফিসার-কর্মচারী আর তাদের নিযুক্ত ভাড়াটিয়া দালালদের আখড়ায় পরিনত হয়েছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস। টাকার বিনিময়ে ভোগ দখলীয় জমি আরেকজনের নামে মাঠ পর্চা দেয়ায় ইতিমধ্যে মোল্লা আবু সাইদ নামের এক সেটেলমেন্ট অফিসারের বিরুদ্ধে পৌর এলাকার ভুক্তভোগী ভূমি মালিক আনিসুর রহমান বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া খোদ উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা লিয়াকত আলী ও মোল্লা আবু সাইদের নিযুক্ত নিজস্ব দালালদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভূমি মালিকদের সর্বশান্ত করছে। ওই অফিসে সেবা নিতে এসে হয়রানির স্বীকার ভুক্তভোগী সেলিম হাং ও রাসেল অভিযোগ করে জানায়, যারা মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিতে পারে তাদের কাজই দ্রুত হচ্ছে। আর যারা ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তাদের কোন কাজই করছেন না ওই সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা লিয়াকত আলী ও মোল্লা আবু সাইদ। আর ঘুষ লেনদেনের এসব কাজে অফিসের অসৎ কর্মচারীরা নিজেরাই দালালদের নিযুক্ত করেছেন। মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারী সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিনের বেলা জমিনের আপত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে উভয় পক্ষের শুনানি হয়। সেখানে প্রকাশ্যেই চলছে ঘুষের টাকা লেনদেনের ছড়াছড়ি। এজলাসে বসে এবং অফিসের বাহিরে কখনও পেশকার,জারিকারক ও দালালদের মাধ্যমে অবৈধ টাকার লেনদেন সেরে নিচ্ছেন অফিসার লিয়াকত আলী ও মোল্লা আবু সাইদ। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে সেটেলমেন্ট অফিসে মামলার শুনানী শেষে রায় লিখে মাঠপর্চা দিতে প্রতি মামলা বাবদ ৫-৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগীরা।
এছাড়াও ওই অফিসে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ইব্রাহিম ও শহীদ অবৈধভাবে পেশকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে ঘুষ বানিজ্যেরও স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে। এতে স্থানীয় কয়েকজন মোহরী ও সেটেলমেন্ট কেন্দ্রীক দালালরা প্রকাশ্যেই জড়িত রয়েছে। শুধু দিনের বেলা নয় সন্ধ্যার পরেও অফিসারদের সরকারী বাসায় চলে ঘুষ-দূর্নিতীর রমরমা বানিজ্য। বিশেষ করে ওই অফিসের সংশ্লিষ্ট অফিসার মোল্লা আবু সাইদ ও মো: লিয়াকত আলীর নিযুক্ত একাধিক দালাল চক্র রয়েছেন এবং সন্ধ্যার পরপরই ওই দালাল চক্র তাদের একই সরকারী বাসায় দূর্নীতির হাট বসায়। ভুমি মালিকদের জিম্মিদশায় রেখে তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই সংগবদ্ধ দালাল চক্রগুলোর সদস্যরা বিভিন্ন স্থান থেকে এসে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপজেলার এই অফিসে সেবা নিতে আসা নিরীহ জনসাধারণের কাছ থেকে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে মোটা অংকের টাকা নিয়েও হয়রানী করছে। আর এ সকল ঘুষ-দূর্নিতী ও অনিয়মের সবচেয়ে বড় ভাগ যায় উপজেলা সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা রবি প্রসাদ দে’র পকেটে। তার যোগসাযোগেই অফিসার-দালালদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন সেবা নিতে আসা নিরীহ জনসাধারণ। এ সকল অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মো: লিয়াকত আলীর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি এক সময় এসে দেখা করলে সব বুঝিয়ে দেব। উপজেলা সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা রবি প্রসাদ দে’র কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে উৎকোচ দেয়ার ইঙ্গিত করে বলেন, আপনি অভিযুক্তদের সাথে পারসোনালভাবে দেখা করেন।
গণধর্ষণ করে ভিডিও চিত্র ধারন,আটক ১
গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে তার ভিডিও চিত্র ধারনের অভিযোগে থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ায় পুলিশ ওই মামলার অন্যতম আসামি শামীম মহাজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাটি বরিশালের উজিরপুরের বড়াকোঠা এলাকায়। গত ১৪ জানুয়ারী গণধর্ষণের ঘটনার ২দিন পর গত ১৬ জানুয়ারী ওই ধর্ষিতা গৃহবধূ (৩০) বাদী হয়ে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে উজিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ধর্ষিতা ওই গৃহবধূ একই উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের গাজিরপার গ্রামের এক রিক্সা চালকের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী এবং মামলায় উল্লেখিত আসামিরা হলেন, একই এলাকার শামীম মহাজন, সেলিম বেপারী, সোহেল তালুকদার, জাকের বেপারী ও সান্টু বেপারী। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ ডিসেন্বর সন্ধ্যায় ডাবেরকুল বাজার থেকে বাড়ী যাওয়ার সময় সোহেল তালুকদারের দোকানে পূর্ব থেকে অপেক্ষমান শামিম মহাজন ওই নারীকে দোকানের ভিতরে জোরপূর্বক টেনে নিয়ে যায়।
পরে সেখানে থাকা সেলিম বেপারী, সোহেল তালুকদার, জাকের বেপারী ও শামীম ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। অন্যান্যরা ধর্ষণ করার সময় শামীম তার মুঠোফোনে ভিডিও চিত্র ধারন করে এবং তাকে সহযোগীতা করে সান্টু বেপারী। ধর্ষণ শেষে ওই রাতেই ধর্ষিতাকে তার বাড়ীর কাছে পৌঁছে দিয়ে এ ঘটনা কাউকে জানালে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয় ধর্ষকরা। এ ঘটনার ২ দিন পর ধর্ষিতা নারী গত সোমবার রাতে উজিরপুর মডেল থানায় ওই ৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। উজিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন জানান, ওই নারীর দেয়া অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করার পাশাপাশি অভিযুক্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বুধবার ওই নারীকে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেলে প্রেরণ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

No comments:

Post a Comment