রাজধানীর
মিরপুরের পলাশনগরের সড়কগুলো অত্যন্ত সরু আর খানাখন্দে ভরা। এর মধ্যে কিছু
অংশ থাকে সবজি বিক্রেতাদের দখলে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সারা
বছরই বাসিন্দাদের কাদাপানির মধ্যে চলাচল করতে হয়। বেশি ভোগান্তি হয়
বর্ষকালে। এলাকার খালগুলো দখলদারদের হাতে চলে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত
হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। সরেজমিন দেখা যায়, মিরপুর ১১ নম্বরের ৫নং
ওয়ার্ডের পলাশনগরের সড়কগুলোতে একটি লেগুনা বা প্রাইভেটকার ঢুকলে অন্য পাশ
থেকে রিকশা ঢুকতে পারে না। এলাকার প্রধান সড়ক (১৬ ফিট) ঠিক থাকলেও ছোট
সড়কগুলোতে শুধু বালু ফেলে রাখা হয়েছে। সড়কের দু’পাশে রাখা হয়নি পানি
নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। সড়ক দখল করে ভ্যানে বিক্রি করা হচ্ছে মাছ, শাক ও
ফলমূল। বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, পানি নিষ্কাশনের
ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের বেশি সমস্যা হয়। এখন তো শীতকাল তেমন সমস্যা হচ্ছে
না। বর্ষাকালে সমস্যা বেশি হয়। বর্ষায় সড়কগুলোতে হাঁটুপানি হয়। বাড়িঘরে
ঢুকে পড়ে ময়লা। পলাশনগরের খাল দখল হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে আরেক বাসিন্দা মো.
শাহীনুল ইসলাম বলেন, আমি এ এলাকায় ১৫ বছর ধরে থাকি। আমাদের সড়কগুলো অন্য
এলাকা থেকে একটু নিচু।
খাল দখল হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হচ্ছে দিন
দিন। আর দুই বছর ধরে এখানকার ৮টি ছোট সড়কে বালু ফেলা রয়েছে। কর্তৃপক্ষকে এ
ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। পলাশনগর প্লট মালিক
কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, আমাদের এলাকার উপ-সড়ক ও
সুয়ারেজ লাইনের জন্য দুই বছর আগে আবেদন করেছি। আমাদের মূল সড়কটি ১৬ ফিট।
ভবিষ্যতে আমরা আরেকটি বাইপাস সড়কের ববস্থা করব। পলাশনগরের পেছন দিক থেকে
লালমাইট্টা এলাকার সঙ্গে ২০ ফিট সড়ক হবে। ওয়াসার কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় এ
এলাকায় এসে পয়ঃনিষ্কাশনের সুব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও এখনও তা বাস্তবায়ন
হয়নি। মিরপুরের ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুর রউফ নান্নু যুগান্তরকে বলেন,
পলাশনগরের জায়গা তো জনগণের। সিটি কর্পোরেশনকে জমি না দিলে সড়ক কীভাবে হবে?
আমি নিজেই ২-৩ বার গিয়েছি সেখানে। এত সরু সড়ক, গাড়ি নিয়ে ঢুকতে পারিনি।
তারা যদি সড়কের জন্য জমি ছেড়ে দেন তাহলেই তা হবে। তারা জায়গা ছেড়ে দিলে
সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সঙ্গে কথা বলে সড়ক ও পয়ঃনিষ্কাশনের কাজ শুরু করব।

No comments:
Post a Comment