দক্ষিণ
কেরানীগঞ্জে পরিকল্পিতভাবে মহেন্দ্র গাড়িচাপায় সোহাগকে হত্যা করা হয়েছে
বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, ব্যবসায় একক আধিপত্য
বজায় রাখতে স্থানীয় ইট-বালু ব্যবসায়ী আ. জব্বার, তার দুই ছেলে মিজান ও
মিরাজ এবং চাচাতো ভাই আজিজুল মেম্বারের যোগসাজশে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত
হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অভিযুক্তরা। হত্যার অভিযোগ এনে
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন নিহতের বড় ভাই শুভাঢ্যা ইউপি
৩নং ওয়ার্ড মেম্বার মুরাদ হোসেন। তবে পুলিশ এজাহারটি গ্রহণ করেনি।
এমনকি
বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতেও গাফিলতি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি স্রেফ একটা দুর্ঘটনা।
এখানে অধিকতর তদন্তের কিছু নেই।’ শনিবার সন্ধ্যায় খেজুরবাগ বাগানবাড়ির
সামনে মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় একটি মহেন্দ্র গাড়ি চাপা দিলে গুরুতর আহত
হন স্থানীয় ইট-বালু ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সোহাগের বাড়ি চুনকুটিয়া
আমিনপাড়া এলাকায়। বাবা মৃত দেলোয়ার হোসেন দিলু মেম্বার। সম্প্রতি সোহাগের
বিয়ে হয়েছে। আগামী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বউ ঘরে তোলার কথা ছিল। নিহতের ভাই
মুরাদ হোসেন বলেন, সোহাগ ইট-বালু ও গ্রিলের ব্যবসা করতেন। খেজুরবাগ স্কুল
রোডে ‘খান ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস অ্যান্ড থাই’ নামে তার একটি প্রতিষ্ঠান
রয়েছে।
পাশে মিজান নামে একজনের ইট-বালুর দোকান রয়েছে। জব্বারের সঙ্গে
পার্টনার হিসেবে আছে তার দুই ছেলে ও চাচাতো ভাই আজিজুল মেম্বার। কিন্তু
সোহাগের পলিসির কারণে ব্যবসায় সুবিধা করতে পারছিলেন না তারা। তাই সোহাগের
দোকান অন্যত্র সরিয়ে নিতে বলছিলেন তারা। এতে কাজ না হওয়ায় তারা তার ওপর
ক্ষিপ্ত হন এবং নানাভাবে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। একাধিকবার দু’পক্ষের মধ্যে
ঝগড়াও হয়। তখন সোহাগকে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেন মিজানসহ অন্যরা। তিনি আরও
অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গাড়িচাপা দিয়ে সোহাগকে হত্যা করা
হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ আমলে নেয়নি। স্থানীয়
বাসিন্দারা জানান, অবৈধ মহেন্দ্র গাড়ির কারণে সড়কটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্য
ব্যবসায়ীরা ব্যবহার না করলেও ইট-বালু টানার জন্য মহেন্দ্র গাড়ি ব্যবহার
করেন শুধু মিজান ও তার পার্টনাররা। সড়কটি রক্ষায় মহেন্দ্র গাড়ি চলাচলে
সোহাগ বাধা দেন। এতে সোহাগের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন তারা। এদিকে সোহাগ নিহতের
পরপরই বাড়িঘরে তালা দিয়ে পরিবারসহ গা ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্তরা। তাই পুরো
বিষয়টি নিয়ে নিহতের পরিবারসহ এলাকাবাসীর মধ্যে নানা গুঞ্জন রয়েছে। সঠিক
তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে দাবি নিহতের পরিবারের।

No comments:
Post a Comment