বিচারপতিদের
অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিয়ে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী
বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন শুনানির জন্য অঅগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য
করেছেন আপিল বিভাগ। ওইদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আট বিচারপতির
বেঞ্চে এই আপিলের শুনানি হবে। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার
নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন। গতকাল বুধবার
হাইকোর্টে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। সকালে বিষয়টি শুনানির
জন্য আসলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম চার সপ্তাহের সময় চেয়ে আবেদন
করেন। তিনি বলেন, 'এটি অনেক বড় রায়, প্রস্তুতির জন্য সময় প্রয়োজন।' এরপর
আদালত ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল
মাহবুবে আলম ছিলেন । আর রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মনজিল
মোরসেদ। গত ২৯ নভেম্বর চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আবেদনটি আপিল
বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে ৫ জানুয়ারি শুনানির জন্য পাঠান।
এর আগে গত ২৮
নভেম্বর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদনটি জানায় রিটকারী পক্ষ।
আবেদনে বলা হয়, এই মামলায় সাংবিধানিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত থাকায়
হাইকোর্ট সরাসরি আপিলের জন্য সার্টিফিকেট ইস্যু করেছিলেন। আদালত বলেছিলেন,
যেহেতু এই মামলায় সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয় জড়িত সেহেতু এটি আপিল
বিভাগেই নিষ্পত্তি হবে। রিটকারী পক্ষ হাইকোর্টের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি
পাওয়ার পর বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আবেদন দাখিল করে। গত বছরের ৫ মে
সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ এ
রায় ঘোষণা করে। রায়ে দুই বিচারপতি ১৬তম সংশোধণী অবৈধ ঘোষণা করলেও এক
বিচারপতি ওই সংশোধনী বহাল রেখে রায় দেন। নিয়মানুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের
ভিত্তিতে যে রায় দেয়া হয়, সেটাই চূড়ান্ত। ১১ আগস্ট ওই রায়ের অনুলিপি
প্রকাশিত হয়। এখন বিষয়টি আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হবে। সর্বোচ্চ আদালতের
বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭
সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। বিলটি পাসের পর ওই বছরের ২২
সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। পরে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী
আইন-২০১৪-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টের নয়জন
আইনজীবী রিট আবেদনটি করেন।

No comments:
Post a Comment