Thursday, January 12, 2017

আইন প্রণয়নসহ চার প্রস্তাব আ’লীগের

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে এখনই একটি আইন অথবা অধ্যাদেশ জারি করাসহ চার দফা প্রস্তাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ১১টি সুপারিশ করেছে দলটি। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়মী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে এসব প্রস্তাব ও সুপারিশ তুলে ধরে। প্রস্তাবের বাকি তিনটি হল- সংবিধানের ১১৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং প্রবর্তন এবং রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার অনুযায়ী ইসি গঠন। বঙ্গভবনের দরবার হলে দেড় ঘণ্টার এ সংলাপের পর রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের সামনে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবের কপি সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাষ্ট্রপতিকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, সময় স্বল্পতার কারণে আগামী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তা সম্ভব না হলে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সময় যেন এর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এখন থেকেই সে উদ্যোগ গ্রহণ করার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। ই-ভোটিংয়ের প্রস্তাব দেয়ার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিদ্যমান সব বিধিবিধানের সঙ্গে জনমানুষের ভোটাধিকার অধিকতর সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং প্রবর্তন করতে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সংবিধান ও বিরাজমান সব আইনকানুনের ওপর শ্রদ্ধাশীল। রাষ্ট্রপতির সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সুগভীর প্রজ্ঞা ও সুবিবেচনার প্রতি আওয়ামী লীগের পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতির গৃহীত যে কোনো ন্যায়সঙ্গত উদ্যোগের প্রতি এ দলের পরিপূর্ণ সমর্থন থাকবে। এর আগে বৈঠক শেষে বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় ওবায়দুল কাদের জানান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে প্রেস সচিব বলেন, ভবিষ্যতে নির্বাচন নিয়ে কোনো বিতর্ক হোক, এটা সরকার বা আওয়ামী লীগ চায় না। তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যা উপযুক্ত মনে করবেন, সে প্রক্রিয়ায় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতির গৃহীত যে কোনো ন্যায়সঙ্গত উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।’ এদিকে রাষ্ট্রপতির কাছে ইসি নিয়ে আওয়ামী লীগের সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনকালীন নির্বাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/সংস্থার দায়িত্বশীলতা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও এর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা ও নিরপেক্ষ আচরণ, ছবিযুক্ত একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা এবং ভোট গ্রহণের দিন নির্বাচন কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা, নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পরিবর্তে শুধু প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রিসাইডিং অফিসার থেকে পোলিং অফিসার পদে নিয়োগ করা, আইনশৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল আচরণ, দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটির সদস্যদের নির্মোহ তৎপরতা, নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থের প্রয়োগ বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সব পর্যায়ের ভোটারের অবাধ ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা, নির্বাচনের আগে ও পরে এবং নির্বাচনের দিন ভোটারসহ সর্বসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্বাচনকালীন প্রশাসন ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য আবশ্যকীয় সব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা এবং নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিধি কেবল আবশ্যকীয় দৈনন্দিন (রুটিন) কার্যাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবুল মাল আবদুল মুহিত, এইচটি ইমাম, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মোহাম্মদ জমির, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, আইনবিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতিন খসরু, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে ১৮ ডিসেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ইসির নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে চার দফায় ২৩টি দলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির আলোচনা শেষ হয়েছে। পঞ্চম দফায় আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে রাষ্ট্রপতি সংলাপের আমন্ত্রণ জানাবেন বলে বঙ্গভবন থেকে জানানো হয়েছে।

No comments:

Post a Comment