Sunday, January 8, 2017

সেনাবাহিনী অশুভ শক্তি প্রতিহত করতে প্রস্তুত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে গড়ে ওঠা এই সেনাবাহিনী যে কোনো অশুভ শক্তিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করতে আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাঁজোয়া, গোলন্দাজ ও পদাতিক বাহিনীর নতুন প্রবর্তিত যুদ্ধ সরঞ্জামে সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।’ শেখ হাসিনা নোয়াখালীর স্বর্ণদ্বীপে (জাহাইজ্জার চর) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ম্যানুভার অনুশীলন-২০১৬ মহড়া অনুষ্ঠানে শনিবার প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চৌকস সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক রণসজ্জা ও তাদের সুদৃঢ় কার্যক্রম পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর বহন করে।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে নতুন সংযোজিত ট্যাংক এমবিটি-২০০০, এপিসি বিটিআর-৮০, সেলফ প্রোপেলড আর্টিলারি গান, নোরা-বি-৫২, রাডার বেহিকল এসএলসি-২, ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইল এমইটিআইএস-এম-১ সমরাস্ত্রের ব্যবহার, ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য সব কোরের পেশাদারিত্ব দেখে আমি সেনাবাহিনীর সার্বিক সক্ষমতায় সম্পূর্ণ আশ্বস্ত।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই মহড়া, সেনাবাহিনীর দক্ষতা ও পেশাদারিত্বেরই প্রতিফলন, যা একটি আধুনিক ও শক্তিশালী সেনাবাহিনীর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।’ ১১ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে ও ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ম্যানুভার অনুশীলন-২০১৬ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফ আশরাফ মহড়াটি পরিচালনা করেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান, সংসদ সদস্য, জিওসি ১১ ও ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার, নন-কমিশন্ড অফিসার ও সৈনিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর মহড়া অবলোকন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করতে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা চর ‘জাহাইজ্জার চর’ সফর করেন। চরটির নতুন নামকরণ করা হয় স্বর্ণদ্বীপ।  দুপুরে হেলিকপ্টারে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণদ্বীপ পৌঁছে মাল্টি পারপাস সাইক্লোন সেন্টারের উদ্বোধন করেন ও সেখানে একটি নারকেল গাছের চারা রোপণ করেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর কোয়াটার মাস্টার জেনারেল লে. জেনারেল আনোয়ার হোসেন দ্বীপটি গড়ে তোলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ, কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করেন। নোয়াখালীর দক্ষিণে ১৯৭৮ সালে মেঘনা নদীতে জেগে ওঠে এ চর। ৩৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ চরটি ২০১৩ সালে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও বসতি স্থাপনের উপযোগী করে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বর্ণদ্বীপ-এর প্রশিক্ষণ এলাকার সুপরিকল্পিত ব্যবহার দেখে এবং এলাকাটির সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সেনাবাহিনীর অফিসার, জেসিও ও অন্যান্য পদবির সৈনিকরা যারা পরিবার-পরিজন ছেড়ে এই নির্জন দ্বীপের বৈরী ও প্রতিকূল পরিবেশে অবস্থান করছেন, রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে এ দ্বীপটিকে সত্যিই একটি স্বর্ণদ্বীপে পরিণত করেছেন তাদের ধন্যবাদ। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দেয়া হয়েছে : সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে লন্ডনের বেন্টের মেয়র পারভেজ আহমেদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় শেখ হাসিনা বলেছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দেয়া হয়েছে যাতে এসব প্রতিষ্ঠান ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে যথেষ্ট শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। বৈঠকে বেন্টের মেয়র ছাড়াও ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সের সদস্য, বঙ্গবন্ধুর নাতনি ও শেখ হাসিনার ভাগ্নী টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক সে সময় উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রী বেন্টের বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মেয়রকে স্বাগত জানিয়ে ব্রিটেনে বাংলাদেশীদের ব্রিটিশ রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং তাদের অবস্থানের দেশটির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দুই বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক ও রূপা হকের লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবাইনের শ্যাডো পার্লামেন্টের অন্তর্ভুক্তির জন্যও সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এমপি ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সে নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশী কন্যাদের ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেখে তিনি গর্বিত। টিউলিপ সিদ্দিক ও রোশনারা আলির বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে ও ড. রূপা হকের বাড়ি পাবনা জেলায়। এই তিনজনই ২০১৫ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগমও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

No comments:

Post a Comment