কাগজে-কলমে
এবারের বাণিজ্যমেলায় ৪৮টি বিদেশী স্টল-প্যাভিলিয়ন রয়েছে। অংশ নিয়েছে ২০টি
দেশ। তবে দুয়েকটি ছাড়া বাকি সব স্টল-প্যাভিলিয়ন দেশী ব্যবসায়ীদের দখলে।
মেলায় আসা অনেক ক্রেতা-দর্শনার্থী এসব স্টল-প্যাভিলিয়নে প্রবেশ করে হতাশা
প্রকাশ করছেন। আবার অনেকে পণ্য কিনে হচ্ছেন প্রতারিত।
ইরান, পাকিস্তান ও
ভারতের মতো বিদেশী প্যাভিলিয়নে বিক্রি হচ্ছে দেশী আর চীন থেকে আমদানি করা
পণ্য। থাইল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান ও ইরানের প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখা গেছে,
এসব প্যাভিলিয়নে প্রসাধনসামগ্রী, জুতা, ভ্যানিটি ব্যাগ, আচার, চকোলেট, শাল,
এনার্জি ড্রিংক, জুস, মশলা, চাদর, থ্রিপিস, প্লাস্টিক ও সিরামিকস পণ্যসহ
নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। প্যাভিলিয়নগুলোয় সরাসরি বিদেশ থেকে
অংশ নেয়া ব্যবসায়ীর দেখা মেলেনি। স্টল নিয়ে ব্যবসা করছেন নিউমার্কেট,
গাউছিয়া মার্কেটের বড় ব্যবসায়ীরা। আবার অন্য কোথাও বরাদ্দ না পেয়ে অনেকে
বাধ্য হয়ে ভাড়া নিয়েছেন এসব প্যাভিলিয়নের স্টল। এক দেশের স্টল-প্যাভিলিয়নে
অন্য দেশের পণ্যও বিক্রি হতে দেখা গেছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে
বাণিজ্যমেলার সদস্য সচিব রেজাউল করিম বলেন, মেলায় বিদেশ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে
প্রতিষ্ঠান আসে না। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্যবসায়ীরা আসেন। প্যাভিলিয়ন পেতে
বিদেশীরা অনলাইনে ইপিবির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করেছেন। এ ছাড়া অনেক
বিদেশী ব্যবসায়ীরা এ দেশের এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করেছেন। সে অনুযায়ী
স্টল-প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইপিবি থেকে একটি
প্রতিষ্ঠানকে পুরো প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে। পরে তারা এগুলো
ব্যক্তিগত বা আন-অফিসিয়ালি স্টল বানিয়ে ভাড়া দিতে পারেন। তবে এর অফিসিয়াল
রেকর্ড নেই। সাধারণ স্টল মালিকদের অভিযোগ, বড় বড় মার্কেটের ব্যবসায়ীরা
ইপিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য রেখে প্রতি বছরই বিদেশী প্যাভিলিয়নগুলো
বরাদ্দ নেন।
তারা প্যাভিলিয়নগুলোয় অধিক দামে চীন-ভারত থেকে আমদানি করা পণ্য
বিক্রি করেন। অথচ একই পণ্য তাদের কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক ক্রেতা
না বুঝেই প্রতারিত হচ্ছেন। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশ
হয়েছে। মূল গেট দিয়ে ঢুকে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের পশ্চিম দিকের ৯ নং
প্যাভিলিয়নটি থাইল্যান্ডের। ওপরে থাইল্যান্ডের পতাকা উড়ছে। ঢুকে দেখা গেল,
প্রথম দোকানেই বিক্রি হচ্ছে দেশে তৈরি মামা নুডলস। অন্য প্রান্তের দোকানে
বিক্রি হচ্ছে জুস-কফি। স্টল মালিকের দাবি, এগুলো থাইল্যান্ড থেকে আমদানি
করা। তারা এখানকার সাপ্লাইয়ার (সরবরাহকারী), এ দেশের ব্যবসায়ী। এখানে
বিক্রি হচ্ছে মহিলাদের জুতা ও কসমেটিকস সামগ্রী। ৮ নং প্যাভিলিয়নটি ফরেন
প্যাভিলিয়ন। এখানেও একই অবস্থা। পাকিস্তানি প্যাভিলিয়নের অবস্থা আরও করুণ।
দেশী ব্যবসায়ীরা পাকিস্তানি শাল, চাদর ও থ্রিপিস বিক্রি করছেন। মেলায় আসা
গৃহিণী আসমা আক্তার বলেন, ইরানি জিরা কিনতে প্যাভিলিয়নে ঘুরছি। তবে আসল
ইরানি জিরা পাচ্ছি না। একেক প্যাভিলিয়নে একেক ধরনের জিরাকে ইরানি জিরা বলা
হচ্ছে। দামেও বেশ তারতম্য। এটা প্রতারণা ও মানুষকে বিভ্রান্ত করার ফন্দি।
প্যাভিলিয়নগুলোয় স্টল নেয়া কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা
স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে ভাড়ায় স্টল নিয়েছেন।

No comments:
Post a Comment