গুলশানের
ডিসিসি মার্কেট ভস্মীভূত হওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি বুধবার ভোর থেকেই
কাজ শুরু করেছে। নানা আঙ্গিক থেকে রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করেছেন কমিটির
সদস্যরা। এর মধ্যে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাতের বিষয়টি
বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন তারা। তবে প্রথম দিনের তদন্তে এমন কোনো ক্লু পাননি
বলে দাবি করেছেন কমিটির সদস্যরা। বরং তাদের কাছে মনে হয়েছে, বৈদ্যুতিক
লাইন থেকে আগুন ছড়ানোর শংকা ক্ষীণ। তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, গুলশান-১
সিটি কর্পোরেশন মার্কেটের বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো চার মাস আগে সংস্কার করা
হয়েছে। আগুনের উৎপত্তি হতে পারে এমন প্রতিটি স্পট ভালো করে দেখেও কোনো ক্লু
বের করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, গভীর রাতে প্রতিটি দোকানের এসি,
লাইট, ফ্যান বন্ধ ছিল। এ কারণে বৈদ্যুতিক ব্যবহারজনিত কোনো কারণেও
দুর্ঘটনার ধারণা করা যাচ্ছে না।
তদন্ত কমিটির ওই সদস্য জানান, ডিসিসি
মার্কেটের আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এবং ভবন ধসে পড়া রহস্যের সৃষ্টি করেছে। এ
কারণে ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যতীত সঠিক কারণ অনুসন্ধান করা সম্ভব
নয়। তবে তদন্ত কমিটিতে সে ধরনের বিশেষজ্ঞ রাখা হয়নি। ঢাকা উত্তর সিটি
কর্পোরেশনের বৈদ্যুতিক বিভাগের এক নিম্নমান সহকারী জানান, আনিসুল হক মেয়র
হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর সিটি কর্পোরেশন মার্কেটের নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক
সংযোগ ঢেলে সাজানো হয়েছে। এ কারণে কোনো ধরনের বৈদ্যুতিক লিকেজ থেকে
দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম। আগেরদিন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক
বলেছিলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুন লাগার শংকা ৯৯ শতাংশ। এখানে
নাশকতার অভিযোগ ঠিক নয়। সূত্রমতে, এ কারণেই তদন্ত কমিটি বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র
নিয়ে তদন্তে জোর দেয়। তবে ব্যবসায়ীরা বারবারই বলে আসছেন, ষড়যন্ত্র করেই
আগুন দেয়া হয়েছে। তাদের উচ্ছেদই এর লক্ষ্য। মেয়রের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে
চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড.
বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, একজন রাজনীতিকের এমন মন্তব্য
অনভিপ্রেত। তার বলা উচিত ছিল, তদন্ত করেই মূল ঘটনা জানানো হবে।
তদন্ত কমিটি নিয়েও প্রশ্ন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগুন দ্রুত ছড়াতে বা ভবন ধসে ফেলতে বিস্ফোরক বা দাহ্য কিছু ব্যবহারের শংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। অথচ ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষার জন্য কোনো বিশেষজ্ঞই যেমন রাখা হয়নি, তেমনি কারিগরি দক্ষতা না থাকার পরও কমিটিতে রাখা হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের এক কাউন্সিলরকে। অন্যদিকে সাত সদস্যের এ কমিটিতে ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিই রাখা হয়েছে চারজন, যার কোনো যৌক্তিকতাও দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, রহস্য উদ্ধারে ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা খুবই জরুরি। কিন্তু অবাক হলাম, তদন্ত কাজ শুরুর আগেই ধ্বংসস্তূপ অনেকটা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তাছাড়া ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা করার জন্য কমিটিতে কেমিস্ট রাখা দরকার ছিল। এমন কাউকে রাখা হয়নি। বর্তমান তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে আগুন লাগার সঠিক কারণ বের করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে জানান, তদন্ত কমিটিতে ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা করার মতো বিশেষজ্ঞ রাখা গেলে ভালো হতো। কিন্তু কমিটি গঠনের সময় বিষয়টি আমরা সেভাবে চিন্তা করিনি। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে গানপাউডার ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। সে কারণে ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনও সুযোগ আছে, আমরা বিশেষজ্ঞ কাউকে নেয়ার চেষ্টা করব।
বহাল থাকবে মার্কেট
গুলশান-১ ডিসিসি মার্কেট আপাতত বহাল থাকবে। বহুতল ভবন নির্মাণ বা ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান জায়গা বুঝিয়ে দেয়ার বিষয়ে বিশেষ কোনো আগ্রহ নেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি)। শুধু তাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের পুনর্বাসনের চেষ্টা রয়েছে বলেও জানান সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসির সচিব দুলাল কৃষ্ণ সাহা যুগান্তরকে জানান, গুলশান-১-এর ডিসিসি মার্কেট ভেঙে ফেলার আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ওই মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছি আমরা। ডিএনসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুর রহমান যুগান্তরকে জানান, গুলশান-১-এর ডিসিসি মার্কেটের জায়গার বিষয়ে ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি। তবে এ ফাইলের সব ধরনের ফাইন্ডিং উল্লেখ করে ওই ফাইল ওপরে পাঠানো হয়েছে। এর বেশি কিছু জানি না।
মেয়রের বক্তব্য
সার্বিক বিষয়ে মেয়র আনিসুল হক বুধবার যুগান্তরকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের জন্য কি ধরনের লোক রাখা দরকার, সেটা ফায়ার সার্ভিসের দেখার বিষয়। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের চাহিদা অনুযায়ী আমরা আমাদের প্রতিনিধি দিয়েছি। বাদ-বাকি ফায়ার সার্ভিসের বিষয়, সেটা তারা দেখবে। এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, এ মার্কেটের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) সংবাদ সম্মেলন করা হবে। সেখানে ডিসিসি মার্কেট সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতার বিষয়গুলো পরিষ্কার করা হবে।
তদন্ত কমিটি নিয়েও প্রশ্ন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগুন দ্রুত ছড়াতে বা ভবন ধসে ফেলতে বিস্ফোরক বা দাহ্য কিছু ব্যবহারের শংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। অথচ ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষার জন্য কোনো বিশেষজ্ঞই যেমন রাখা হয়নি, তেমনি কারিগরি দক্ষতা না থাকার পরও কমিটিতে রাখা হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের এক কাউন্সিলরকে। অন্যদিকে সাত সদস্যের এ কমিটিতে ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিই রাখা হয়েছে চারজন, যার কোনো যৌক্তিকতাও দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, রহস্য উদ্ধারে ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা খুবই জরুরি। কিন্তু অবাক হলাম, তদন্ত কাজ শুরুর আগেই ধ্বংসস্তূপ অনেকটা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তাছাড়া ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা করার জন্য কমিটিতে কেমিস্ট রাখা দরকার ছিল। এমন কাউকে রাখা হয়নি। বর্তমান তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে আগুন লাগার সঠিক কারণ বের করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে জানান, তদন্ত কমিটিতে ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা করার মতো বিশেষজ্ঞ রাখা গেলে ভালো হতো। কিন্তু কমিটি গঠনের সময় বিষয়টি আমরা সেভাবে চিন্তা করিনি। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে গানপাউডার ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। সে কারণে ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনও সুযোগ আছে, আমরা বিশেষজ্ঞ কাউকে নেয়ার চেষ্টা করব।
বহাল থাকবে মার্কেট
গুলশান-১ ডিসিসি মার্কেট আপাতত বহাল থাকবে। বহুতল ভবন নির্মাণ বা ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান জায়গা বুঝিয়ে দেয়ার বিষয়ে বিশেষ কোনো আগ্রহ নেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি)। শুধু তাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের পুনর্বাসনের চেষ্টা রয়েছে বলেও জানান সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসির সচিব দুলাল কৃষ্ণ সাহা যুগান্তরকে জানান, গুলশান-১-এর ডিসিসি মার্কেট ভেঙে ফেলার আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ওই মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছি আমরা। ডিএনসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুর রহমান যুগান্তরকে জানান, গুলশান-১-এর ডিসিসি মার্কেটের জায়গার বিষয়ে ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি। তবে এ ফাইলের সব ধরনের ফাইন্ডিং উল্লেখ করে ওই ফাইল ওপরে পাঠানো হয়েছে। এর বেশি কিছু জানি না।
মেয়রের বক্তব্য
সার্বিক বিষয়ে মেয়র আনিসুল হক বুধবার যুগান্তরকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের জন্য কি ধরনের লোক রাখা দরকার, সেটা ফায়ার সার্ভিসের দেখার বিষয়। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের চাহিদা অনুযায়ী আমরা আমাদের প্রতিনিধি দিয়েছি। বাদ-বাকি ফায়ার সার্ভিসের বিষয়, সেটা তারা দেখবে। এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, এ মার্কেটের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) সংবাদ সম্মেলন করা হবে। সেখানে ডিসিসি মার্কেট সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতার বিষয়গুলো পরিষ্কার করা হবে।

No comments:
Post a Comment