চুয়াডাঙ্গার
জীবননগরে তীব্র শীতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলার উথলী
গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম (৬২) ও গঙ্গাদাসপুর গ্রামের ইসলাম উদ্দিন
কবিরাজ (৬৫) মারা যান। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে তারা মারা গেছেন বলে
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, শনিবার উপজেলায়
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস যা চলতি শীত মৌসুমে এ
উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। রোববার উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড
করা হয় ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া
শৈত্যপ্রবাহের কারণে হাড়কাঁপানো শীতে উপজেলার জনজীবন একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে
পড়েছে। শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে গত ৩ দিনে জীবননগরের আকাশে খুব একটা সূর্যের
দেখা মেলেনি। মাঝে মধ্যে দেখা মিললেও তা বেশীক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না। এ
কারণে ক্রমেই বাড়ছে শীতের প্রকোপ।
দিন দিন তাপমাত্রা আরো কমে যাওয়ায় শীতের
তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে বেশি। দুর্ভোগ দুর্দশা বাড়ছে ছিন্নমূল মানুষের।
কষ্টে পড়েছে বৃদ্ধ, নারী, শিশুসহ সাত-সকালে কর্মের সন্ধানে বের হওয়া
কর্মজীবী মানুষ। শৈত্যপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট হাড়কাঁপানো শীতে মানুষের
পাশাপাশি গবাদি পশু-পাখিও কাবু হয়ে পড়েছে। শীতের কারণে উপজেলায় মাথাব্যাধা,
কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসনালীর প্রদাহ ও সর্দি-জ্বরসহ বিভিন্ন
শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কনকনে শীতে সন্ধ্যায় বাজার-ঘাট
প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাহির হচ্ছে না।
এলাকার ছিন্নমূল মানুষেরা শীত থেকে রক্ষা পাবার জন্য খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত
নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। বাজারের পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে শীতবস্ত্র
কেনার জন্য নিম্ম আয়ের ও ছিন্নমূল মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

No comments:
Post a Comment