নারায়ণগঞ্জ
সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নবনির্বাচিত ২৯ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস
বা তার নিচে। ২৬ কাউন্সিলর ব্যবসায়ী। এর বাইরে ২৭ জন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে
রয়েছে মামলা। বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সুজনের সংবাদ সম্মেলনে
এ তথ্য জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সুজনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক বদিউল
আলম মজুমদার, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার,
নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি
আব্দুর রহমান, সেক্রেটারী ধীমান সাহা জুয়েল। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়,
একজন মেয়র, ৯নং নারী কাউন্সিলর ও ২৭ জন কাউন্সিলর এ ৩৭ জন জনপ্রতিনিধির
মধ্যে ২৯ জনেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। এর গড় শতাংশ হলো
৭৮.৩৮। পক্ষান্তরে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী প্রার্থীর সংখ্যা
যথাক্রমে ৩জন। ৩৭ জন নববির্বচিত জন প্রতিনিধিদের সিংহভাগই ২২ জন বিদ্যালয়ের
গন্ডি অতিক্রম করেননি। ১ জন প্রার্থী শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘর পূরণ করেননি।
তিনিসহ বিদ্যালয়ের গন্ডি না পেরুনোর হার দাঁড়ায় ২৩ জনে যার গড় শতাংশ ৬২.১৬।
বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায় যে উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের ভোটাররা কিছুটা
হলেও বর্জন করেছেন এবং স্বল্পশিক্ষিত প্রার্থীদের অধিক হারে গ্রহণ করেছে।
নবনির্বাচিত সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরসহ ৩৭ জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে ২৬ জনই
ব্যবসায়ী, যার গড় শতাংশ ৭০.২৭। এর মধ্যে ২৭ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের
মধ্যে ২৫ জনই ব্যবসায়ী। পেশার ঘরে ১১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো জমশের আলী
(ঝন্টু) ‘ভূসম্পত্তির মালিক ও কাউন্সিলর’ এবং ১৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর
অসিত বরণ বিশ্বাস ‘১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর’ উল্লেখ করেছেন। ৯ জন সংরক্ষিত
(নারী) আসনের কাউন্সিলরের মধ্যে ৭জনই (৭৭.৭৭%) গৃহিণী। মেয়র পদে নির্বাচিত
সেলিনা হায়াৎ আইভী চিকিৎসক। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যবসায়ীর
প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার তুলনায় নির্বচিত হওয়ার হার
কম।
৩৭ জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে ১২ জনের (৩২.৪৩%) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ১৫ জনের
(৪০.৫৪%) বিরুদ্ধে অতীতে এবং ৮ জনের (২১.৬২%) বিরুদ্ধে উভয় সময়ে মামলা
আছে। মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। ২৭ জন
সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ১৭ জন (৬২.৯৬%) বছরে ৫ লাখ টাকার কম আয়
করেন। বছরে ৫ লাখ থেকে ২৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেন অবশিষ্ট ১০ জন
(৩৭.০৩%)। ৯ জন সংরক্ষিত (নারী) আসনের কাউন্সিলরের মধ্যে ৫ জন (৫৫.৫৫%)
বছরে ৫ লক্ষ টাকার কম আয় করেন। ৩৭ জন প্রতিনিধির মধ্যে ২২ জনের (৫৯.৪৫%)
বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার কম এবং ১২ জনের (৩২.৪৩%) ৫ লক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকা।
৩৭ জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে ২৮ জনই (৭৫.৬৭%) করদাতা। এই ২৮ জনের মধ্যে ৫
হাজার টাকা বা তার চেয়ে কম কর প্রদান করেন ১২ জন (৪২.৮৫%) এবং লক্ষাধিক কর
প্রদান করেন ৩ জন (১০.৭১%)। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘নির্বাচন কমিশনার
চাইলেই যেমন নির্বাচন বাতিল করতে পারে তেমনি নির্বচন কমিশন চাইলেও যদি
ক্ষমতাসীন দল না চায় তবে সুষ্ঠু নির্বচন দূরহ। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন
নির্বাচন ছিল অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু।

No comments:
Post a Comment