Thursday, January 12, 2017

আমি অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা করি

ঢাকাই সিনেমার সবচেয়ে আলোচিত জুটি অনন্ত জলিল ও বর্ষা। পর্দার বাইরে বাস্তব জীবনেও সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ এ দুই তারকা। দুই বছর আগে ঘর আলোকিত করে এসেছে এক পুত্রসন্তান। সংসার জীবনে সুখী দম্পতি হিসেবে অন্যদের হিংসার কারণ হলেও পর্দায় উপস্থিতি নেই দীর্ঘদিন। সম্প্রতি একটি কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে সেই খরা কাটিয়েছেন। পর্দায় দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি, নতুন সিনেমা ও সংসার জীবনের খুঁটিনাটি যুগান্তরের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন এ দুই তারকা। সঙ্গে ছিলেন এফ আই দীপু বছর খানেক চিত্রপুরীতে গুজব ছিল অনন্ত জলিল আর সিনেমায় ফিরবেন না। অনেকে এর পেছনে তার ব্যবসায়িক ব্যস্ততা, আবার কেউ কেউ তাকে সিনেমা জগতের অনেকে ঠকিয়েছেন এসব কারণ তুলে গুজবের সত্যতা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। দীর্ঘদিন পর্দায় অনুপস্থিতির কারণেই এমন গুজব ডালপালা মেলতে শুরু করেছিল। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ঘোষণা দিয়েছিলেন নতুন ছবির কাজ শুরু করবেন।
ছবির নাম ‘দ্য স্পাই’। সঙ্গে আরও ঘোষণা দেন, এ ছবিতে তারা দু’জন (অনন্ত ও বর্ষা) ছাড়া একদল সম্পূর্ণ নতুন মুখ অভিনয় করবেন। এ লক্ষ্যে একই বছরের শেষের দিকে মেধাবী শিল্পী খোঁজার লক্ষ্যে একটি ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। ২০১৬ সালের প্রথম দিকে প্রতিযোগিতাটির ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে নিজ দক্ষতা ও প্রতিভায় অনেক শিল্পী নির্বাচিত হয়। যাদের মধ্যে নায়ক-নায়িকা, সহশিল্পী, বাবা-মা, শিশু শিল্পী ও খলনায়ক রয়েছেন। এরপর দীর্ঘ এক বছর পার হয়ে গেলেও ছবি নির্মাণ করেননি তিনি। ফলে গুজব স্থায়ীত্ব পেতে শুরু করে। কিন্তু অসম্ভবকে সম্ভব করা যার, তিনি ঠিকই সময়মতো জবাব দিয়েছেন। বরাবরই অনন্ত বলেছেন, সময় হলে তিনি জানান দেবেন, কী করতে যাচ্ছেন। অবশেষে জানিয়েছেনও। পর্দায় ফিরছেন এ হার্টথ্রব। তবে দীর্ঘ বিরতির পর এবারের ফেরাটা একটু অন্যভাবে। বিজ্ঞাপন দিয়ে ফিরছেন। সঙ্গে নিয়েছেন বর্ষাকেও। প্রথমবারের মতো অনন্ত-বর্ষা দম্পতি একসঙ্গে ম্যাক্স কোলা নামে একটি কোমল পানীয়ের বিজ্ঞাপনে অংশ নিচ্ছেন। পাশপাশি ওই কোম্পানির শুভেচ্ছা দূত হিসেবেও কাজ করবেন এ তারকা দম্পতি। যদিও এর আগে শুভেচ্ছা দূত হয়েছেন অনন্ত। গ্রামীণ ফোন ও দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী যমুনা গ্রুপের মোটরবাইক ‘পেগাসাস’-এর শুভেচ্ছা দূত ছিলেন তিনি। কিন্তু স্ত্রীকে নিয়ে একসঙ্গে শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করা এটাই প্রথম। অনন্ত বর্ষার সঙ্গে কথা হচ্ছিল তাদের দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফেরা ও পরবর্তী কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে। বিজ্ঞাপনের বিষয়টিই প্রথমে সামনে আসে। গ্রামীণ ফোনের বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ‘অসম্ভবকে সম্ভব করাই অনন্তের কাজ’ সংলাপটি অনন্তকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আবার নতুন কিছু অপেক্ষা করছে ভক্তদের জন্য? প্রশ্নের উত্তরে অনন্ত বলেন, ‘বিষয়টি আমি খুব উপভোগ করি। এটা সত্যি যে, আমি অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা করি। আল্লাহর ইচ্ছায় এ ধরনের অনেক অসম্ভব কাজে আমি সফল হয়েছি। তাই এমন সংলাপ আমার ব্যক্তি জীবনের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিন পর আবারও পর্দায় ফিরছি। যদিও বিজ্ঞাপন নিয়ে। তবে দর্শকদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। শিগগিরই ছবির কাজও শুরু করব। পাশাপাশি নতুন বিজ্ঞাপনেও এমন একটা সংলাপ থাকবে, আগের মতোই জনপ্রিয়তা পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ কিন্তু কবে নাগাদ বিজ্ঞাপনের কাজ শুরু করবেন, কিংবা প্রচারে আসবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অনন্ত বলেন, ‘এখন তো শীতের মৌসুম চলছে। এটা যেহেতু কোমল পানীয়, তাই শীতের শেষের দিকেই বিজ্ঞাপনের কাজ শেষ হয়ে যাবে। গরমের আগেই বিজ্ঞাপনটির প্রচার শুরু হয়ে যাবে।’ বিজ্ঞাপনে প্রথমবারের মতো স্ত্রী বর্ষাকেও সঙ্গে নিয়েছেন। যদিও এর আগে আপনারা দু’জনেই আলাদাভাবে কাজ করেছেন। একসঙ্গে কাজ করার বিষয়টি কীভাবে উপভোগ করছেন? এবার প্রথমে বর্ষাই উত্তর দিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি ঠিক এমন একটা কাজের অপেক্ষা করছিলাম।
অনন্ত কিংবা আমি আলাদাভাবে কাজ করেছি। সফলতাও পেয়েছি। কিন্তু শান্তি পাচ্ছিলাম না যেন। সবসময় মনে হতো, এমন একটা কাজ, যেখানে কিছুটা সময়ের জন্য হুট করেই সবার সামনে আমরা দু’জনই উপস্থিত হব! যদিও সিনেমায় আমরা একসঙ্গে অভিনয় করেছি। কিন্তু সেটা কোনো চমক নয়। ওটা নিয়ম। কিন্তু আমি চমক চেয়েছি। অবশেষে সে ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ...।’ বর্ষার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে অনন্ত বলেন, ‘আমিও বর্ষার সঙ্গে একমত। ঠিক এমন কিছুই চেয়েছিলাম। আলাদাভাবে যখনই কাজ করতাম, তখন মনে হতো, এখানে বর্ষা থাকলেও কত ভালো লাগত। এবারের বিষয়টি আমাদের জন্য সত্যি উপভোগ্য।’ বিজ্ঞাপনে কাজ করলেও দু’জনে একসঙ্গে ছবিতে অভিনয় করার জন্যই কিন্তু বিখ্যাত কিংবা দর্শকদের কাছে পরিচিত। সেই সিনেমা নিয়ে কী ভাবছেন অনন্ত? এমন প্রশ্নের উত্তরে কিছুটা ভাবেন অনন্ত। তারপর বলেন, ‘সিনেমা আমি অবশ্যই করব। যারা মনে করে আমি সিনেমা থেকে দূরে সরে গেছি, তারা অবশ্যই ভুল ভাবছেন। পারিবারিক এবং ব্যবসায়িক কারণে কিছুদিন দেরি হচ্ছে। কিন্তু সিনেমার প্রতি আমার ভালোবাসা একেবারেই অন্যরকম। এটা আমার দর্শক-ভক্ত ও দেশবাসী অবশ্যই জানেন। ভক্তদের কাছ থেকে দূরে থাকতে পারব না। যারা আমাকে অনন্ত জলিল বানিয়েছেন তাদের কাছ থেকে দূরে থাকা কখনই সম্ভব নয়।’ অনন্তের সঙ্গে এবার বর্ষাও যোগ করলেন, ‘আমার কাছেও মনে হয় সিনেমা ছাড়া আমরা আসলেই থাকতে পারব না। কারণ এ ভালোবাসা রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। অন্যদের মতো না হলেও আমরা কিছু ভালো মানের সিনেমা করব। যা আগেও করেছি। দেরি হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে, আমাদের সন্তান আরিজ। এতদিন সন্তানের জন্যই নতুন ছবির কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। এত অল্প বয়সে তাকে ছেড়ে শুটিং করা কিংবা তাকে নিয়ে শুটিং সত্যিই অনেক বেশি ঝামেলা হতো। এবার দু’বছর পার হল তার। আশা করছি শিগগিরই আমরা নতুন ছবির কাজ শুরু করতে পারব।’ কিন্তু সেটা কবে নাগাদ হতে পারে? এবার অনন্তই উত্তর দিলেন আগে- ‘খুব বেশিদিন দেরি হবে না। আশা করছি এপ্রিল-মে নাগাদ শুরু করতে পারব।’ দেশের বাইরে থেকে ‘দ্য স্পাই’ ছবির কাজ শুরু করার কথা ছিল। সেই সিদ্ধান্ত কী এখনও বহাল রয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে অনন্ত বলেন, ‘আমার ইচ্ছা ছিল তুরস্ক থেকে ছবির শুটিং শুরু করব। ওখানে প্রথমেই গান ও কিছু দৃশ্যের কাজ করব। কিন্তু ওখানকার রাজনৈতিক যে অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে, লোকেশন পরিবর্তন করতে হবে। তবে যেখানেই করি, দেশের বাইরের সুন্দর লোকেশন তো অবশ্যই থাকবে। মোট কথা একটি ঝকঝকে, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ছবি উপহার দেয়াই আমার লক্ষ্য। বরাবরই আমি তা করেছি।’ ২০১৬ সাল সিনেমার জন্য কেমন ছিল? কিংবা এ সময়ের কোনো ছবি দেখা হয়েছে কি? এমন প্রশ্নের জবাবে অনন্ত বলেন, ‘গেল বছর আয়নাবাজি নামে একটি ছবি খুব ভালো গেছে। ছবিটি আমি দেখেছি। খুব ভালো লেগেছে। এভাবে ছবি দেখতে দর্শক হলে গেলে তাহলে ছবির বাজারের মন্দা অবস্থা অবশ্যই কেটে যাবে। আর বিষয়গুলো আমার কাছে ইতিবাচকই মনে হয়।’ বর্ষা বলেন, ‘এখন যারা ইন্ডাস্ট্রিতে আসছেন, তাদের অনেকের সঙ্গেই আমার পরিচয় নেই। কিন্তু মাঝে মধ্যে তাদের কাজ দেখি। ভালো করছেন অনেকে। সিনেমাও অবশ্যই ভালো হবে বলে আশা রাখি।’ সংসার জীবনে স্ত্রী বর্ষার কাছে ব্যবসায়ী না নায়ক অনন্ত- কোন পরিচয়টি মুখ্য হয়ে ধরা দেয়? প্রশ্ন শেষ না হতেই বর্ষা হেসে উত্তর দিলেন, ‘আমার কাছে মানুষ অনন্তের গুরুত্ব অনেক বেশি। একজন ভালো মানুষকে ভালোবাসি, এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত ভালোবেসে যেতে চাই, এটা বিধাতার কাছে চাওয়া।’ অনন্তও সঙ্গে যোগ করেন, ‘স্ত্রী হিসেবেও বর্ষার তুলনা হয় না। পাশাপাশি খুবই ভালো মনের মেয়ে। দোয়া করবেন, আমরা যেন সুখে শান্তিতে বাকি জীবন কাটাতে পারি।’

No comments:

Post a Comment