Monday, February 13, 2017

ট্রাম্পের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক গড়তে চান এরদোগান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন এরদোগানের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা। রাজধানী আঙ্কারার প্রেসিডেন্ট ভবনে এক সাক্ষাৎকারে ইলনুর চেভিক বলেন, নতুন আঙ্গিকে সম্পর্ক শুরুর সব ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেই আবার সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, তুর্কি প্রেসিডেন্ট এবং তার কর্মকর্তারা ইসলাম নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে সব ধরনের শত্রুতার পাঠ চুকাতে পারেন। প্রায় একদশক আগে একটি ড্যানিশ পত্রিকায় হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ করায় এরদোগান তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে দমন করার আহ্বান জানান। ২০১৫ সালে শার্লি এবদো ম্যাগাজিনের দফতরে সন্ত্রাসী হামলার পর এরদোগান হুশিয়ারি করে বলেছিলেন, ইসলামকে নিয়ে বিদ্রƒপাত্মক কার্টুন প্রকাশ ও প্রচার করায় ‘প্রতিশোধপরায়ণ সন্ত্রাসবাদ’ বাড়ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প ইসলামোফোবিয়া তৈরি করলে এরদোগান ইস্তাম্বুলে ট্রাম্প নামের দুটি ভবনের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। তবে ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের পর পশ্চিমা ইস্যুতে কিছুটা নীরব রয়েছেন এরদোগান। তুরস্কের কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্কের শুরুর এটাই ভালো সময়। গত বছর থেকে বারাক ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের তিক্ততা শুরু হয়। সিরিয়া সংকট ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে বৈরী মনোভাবই উষ্ণ সম্পর্কের পথে প্রতিবন্ধকতা। এ ছাড়া গত বছরের জুলাইয়ে তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আছে বলে মনে করে আঙ্কারা। তুরস্ক এ অভ্যুত্থানের মূলহোতা হিসেবে পেনসিলভানিয়ায় নির্বাসিত ধর্মীয় সামাজিক আন্দোলনের নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে অভিযুক্ত করে। ফেতুল্লাহকে তুরস্কের কাছে হস্তান্তর নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এ ছাড়া সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি মিলিশিয়া বাহিনীকে সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে তুরস্ক কুর্দি মিলিশিয়াকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর আঙ্কারা আশা করছে, সিরিয়া ইস্যুতে ওবামা যুগের মার্কিন নীতি পরিবর্তন করবেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি তুর্কি কর্মকর্তা আরও বিশ্বাস করেন, ট্রাম্প প্রশাসন ফেতুল্লাহ গুলেনকে তুরস্কের কাছে হস্তান্তরে সহায়তা করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত গুলেন সমর্থকদের দমন করবে।
জার্মান মার্শাল ফান্ড অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটসের আঙ্কারা অফিসের পরিচালক অজগুর আনলুহিসারসিকলি বলেন, ‘পূর্বের মার্কিন প্রশাসনের চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরালো হবে বলে বিশ্বাস করে আঙ্কারা।’ তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ট্রাম্পের মুসলিম নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মুখ খুলে সিরিয়া ও ফেতুল্লাহ ইস্যুকে হুমকিতে ফেলতে চান না এরদোগান। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সিআইএ প্রধান মাইক পম্পেও তুরস্ক সফর করে এরদোগানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এর পরেই তিক্ততার বরফ গলতে শুরু করেছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। বুধবার দু’দেশের প্রেসিডেন্ট ফোনালাপ করেছেন। এ ছাড়া তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদ্রিমও ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সঙ্গে। ইলদ্রিম বলেন, পেন্সের সঙ্গে ফোনালাপে সম্পর্কের ‘নতুন ইতিহাস’ উন্মোচনে অগ্রগতি হয়েছে। তবে সিরিয়া ইস্যুতে মার্কিন-তুর্কি সম্পর্কের ব্যাপারে আশায় অগ্রগতি দেখছেন না বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের তুরস্ক বিষয়ক বিশ্লেষক আরোন স্টেইন বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না তুর্কিরা কেন এতটা আত্মবিশ্বাসী। সিরিয়ার রাকায় আমেরিকার বাহিনীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার মতো যথেস্ট সৈন্য নেই তুরস্কের।’ তিনি আরও বলেন, এরদোগানের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ ছিল স্বাভাবিক যোগাযোগের অংশ মাত্র।

No comments:

Post a Comment