মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্ল্যাকমেইল করার মতো স্পর্শকাতর তথ্য
রাশিয়ার হাতে থাকার প্রতিবেদনের আংশিক সত্যতা রয়েছে। এ সংক্রান্ত নথিপত্রের
তদন্ত কাজে যুক্ত কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত মাসে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এক যৌথ প্রতিবেদনে ওই নথি সংযুক্তির পর
মার্কিন রাজনীতিতে ঝড় উঠেছিল। সে সময় বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ওই প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল, রুশ
গোয়েন্দারা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কেলেংকারি ও আর্থিক গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে
নিয়েছে। শুক্রবার গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, তারা তদন্ত করতে গিয়ে এর কিছু
অংশের সত্যতা পেয়েছেন। আবার কিছু অংশ নিয়ে সত্য-মিথ্যা কোনোটাই নিশ্চিত করা
যায়নি।
১০ জানুয়ারি সিএনএন এ বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তাতে
বলা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের একটি সংক্ষিপ্তসার তাদের হাতে এসেছে। এতে ট্রাম্পের
ব্যক্তিগত ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন গোপন তথ্য রাশিয়ার হাতে চলে যাওয়ার কথা
বলা য়েছে। এসব তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়লে পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টের
মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এর মাধ্যমে ট্রাম্পকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে
রাশিয়া। সিএনএনের ওই প্রতিবেদনকে ভুয়া নিউজ বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প।
তিনি বলেছিলেন, এটা একেবারেই ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি ক্ষেপে গিয়ে বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের ভুয়া
গোয়েন্দা তথ্য কী করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়! এটা নাৎসি যুগের ‘অসুস্থ
মানুষের’ কাজ। ৩৫ পৃষ্ঠার গোয়েন্দা প্রতিবেদনে যেসব নথি জুড়ে দেয়া হয়েছিল
তা সংগ্রহ করেছিলেন সাবেক ব্রিটিশ গোয়েন্দা ক্রিস্টোফার স্টিলি। একটি
প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রথমে রিপাবলিকানদের হয়ে ও পরে ডেমোক্রেটদের হয়ে তিনি
এই অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ট্রাম্পের যৌন কেলেংকারি,
পতিতাদের সঙ্গে সম্পর্ক ও তার রিয়েল এস্টেট ব্যবসার নানা ঘুষ-জালিয়াতির
তথ্য মস্কো হাতিয়ে নিয়েছে। সেসব তথ্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যে কোনো সময় ব্ল্যাকমেইল করতে পারে রাশিয়া। মার্কিন
নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ অভিযোগের তদন্তে নেমে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই তথ্যের খোঁজ পায়। তাদের সমন্বিত প্রতিবেদনে
ক্রিস্টোফার স্টিলির দলিল সংযুক্ত করলেও তার সত্যতা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য
করেননি গোয়েন্দারা।
তবে তারা এ সংক্রান্ত তদন্ত অব্যাহত রাখেন। এক মাস পর
ওই গোয়েন্দারা ক্রিস্টোফার স্টিলির নথিপত্রের কিছু অংশের সত্যতা খুঁজে
পেয়েছেন। তাদের কয়েকজন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, কয়েকজন রুশ গোয়েন্দার
সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনদের যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। তাদের ডজনখানিক
কথোপকথনের বিস্তারিত তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। তবে ওসব কথোপকথনে ট্রাম্পের
গোপনীয় তথ্য কতটা স্থান পেয়েছে- সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি ওই
গোয়েন্দা কর্মকর্তা। সিএনএনও এ বিষয়ে কিছু নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে
নির্বাচনে হ্যাকিং সংক্রান্ত কাজে রুশ গোয়েন্দাদের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প
সরাসরি যুক্ত না হলেও তার ঘনিষ্ঠজনদের যোগাযোগ ছিল। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে
শুক্রবার বিকালে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসারের সঙ্গে
যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সিএনএনের ভুয়া নিউজ দেখতে দেখতে আমরা বিরক্ত
হয়ে পড়েছি।’ কিছু সময় পর সিএনএনকে কলব্যাক করেন স্পাইসার। তখন তিনি বলেন,
‘আরও একটা ভুয়া খবর করলেন আপনারা। অথচ এখন সিএনএন ফোকাস করতে পারত
প্রেসিডেন্টের সাফল্য। তার কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা,
জাপানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালীকরণ। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
জিতেছেন, কারণ তিনি জাতিকে স্পষ্ট ভিশন ও বার্তা শুনিয়েছেন।’ আরও বক্তব্য
নিতে এফবিআই, জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট, সিআইএ ও জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের
মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বহিষ্কারের শংকায় অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ধরপাকড়ে বহিষ্কারের শংকায়
রয়েছেন দেশটিতে অবস্থানরত অভিবাসীরা। চলতি সপ্তাহেই দেশটির ৬টি রাজ্য থেকে
কয়েকশ’ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে এটাকে নিয়মিত কর্মসূচির অংশ বলে
জানায় প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ও কাস্টমস-সংক্রান্ত বিভাগের
কর্মকর্তা ডেভিড মেরিন জানান, সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীবিষয়ক
কর্মকর্তারা আটলান্টা, নিউইয়র্ক, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং এর আশপাশের
অঞ্চলে অভিযান চালান। ওবামা প্রশাসনের সময়েও এ ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে
বলে জানান তিনি। ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়, আটক হওয়া এসব অভিবাসীরা
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের শংকায় রয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাময়িক
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী আদেশের প্রেক্ষাপটে অবৈধবিরোধী অভিযান চালানো
হচ্ছে বলেই আতংকের মাত্রাটা একটু বেশি। অবশ্য ওই আদেশের অংশবিশেষ আদালতে
স্থগিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের নির্বাহী পরিচালক
আলী নুরানি এক বিবৃতিতে বলেছেন, অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে অভিযান
পরিচালনার খবর উদ্বেগ ও আতংকের সৃষ্টি করেছে। শনিবার অ্যামনেস্টি
ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের এ অভিযানে
‘গুরুতর মানবাধিকার লংঘনের’ উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। লাস ভেগাসে অবস্থিত নেভাডা
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল কাগান বলেন, অভিযানের ধরন দেখে মনে হতে
পারে ওবামার আমলে যাদের বিরুদ্ধে আটকাদেশ ছিল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তাদেরই
ধরছে। এই ধরপাকড় শিগগিরই ব্যাপক মাত্রায় রূপ নিতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের হিসপ্যানিক জাতিগোষ্ঠীর সংগঠন কংগ্রেসনাল হিসপ্যানিক
কংগ্রেসের সদস্যরা কাস্টমস-সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান থমাস হোমানের সঙ্গে
শিগগিরই বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন।

No comments:
Post a Comment