Wednesday, February 22, 2017

তিন তালাক নিয়ে কি রায় দেবে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট!

তিন ‘তালাক’ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু বিষয়ে রায় দেবে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এ জন্য ৫ জন বিচারকের সমন্বয়ে একটি বেঞ্চ গঠনের পরিকল্পনা করেছে তারা। ওই বেঞ্চ এসব বিষয় কি অসাংবিধানিক কিনা তা যাচাই বাছাই করে দেখবে। ওদিকে ভারতজুড়ে তালাকের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলন (বিএমএমএ) নামের একটি অধিকার গ্রুপ। বর্তমানে তারা কাজ করছে ভারতের ১৫টি রাজ্যে। তালাক নিয়ে তাদের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ওই রায় দেবে বলে অপেক্ষায় আছে বিএমএমএ। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তাদের যুক্তি প্রমাণ হাজির করতে বলা হয়েছে ৩০শে মার্চের মধ্যে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে ভারতের সর্বোচ্চ আইনী পরামর্শ বিষয়ক সংস্থা দ্য ল কমিশন অব ইন্ডিয়া ভারতীয়দের মধ্যে একটি জরিপ চালানোর উদ্যোগ নেয়। তাতে পারিবারিক আইন সংস্কারের বিভিন্ন উপায় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। বিশেষ করে তালাক নিষিদ্ধ হওয়া উচিত কিনা তা জানতে চাওয়া হয়। অনলাইন সিএনএনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। ভারতের জয়পুর থেকে করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, জয়পুরের তিন সন্তানের এক মা ফারহা (৩০)। একদিন উৎসবের দিনে তার ১০ বছর বয়সী কন্যা তার পিতার কাছে আতশবাজি কেনার জন্য ৫ রুপি দাবি করে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ফারহাকে তালাক দেন তার স্বামী। সঙ্গে সঙ্গে ফারহা সিঙ্গেল মায়ে পরিণত হন। পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো মুসলিম প্রধান আরও কিছু দেশে এ চর্চা নিষিদ্ধ করা হয়েছে অনেক বছর হলো। বিএমএমএ’র প্রধান কার্যালয় পর্যটকদের কাছে পিঙ্ক সিটি নামে পরিচিত জয়পুরে। বিএমএমএ দীর্ঘদিন ধরে ফারহা’র মতো নারীদের নিয়ে কাজ করছেন, যাদেরকে পরিত্যক্ত করেছে তাদের স্বামীরা। তারা এসব নারীকে মামলা করতে সাহায্য করছে অভতা মৌলিক কিছু বিষয়ে সহায়তা দিচ্ছে। তারা ইসলামের রীতি তালাককে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে না। তারা বলছে, যেহেতু তালাক একটি চর্চিত প্রক্রয়া তাই এক্ষেত্রে নারীর জন্যও কিছু আইনী সুরক্ষা প্রয়োজন। তাদের ভাষায়, বর্তমানে নারীদের সুরক্ষায় এক্ষেত্রে কোনো আইনী পথ নেই। গত কয়েক বছর ধরে এমন প্রচারণা গতি পেয়েছে। ২০১৬ সালে রাজ্য পর্যায়ের এক আদালত এমন রীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছে। ওই আদালত বলেছে, তিন তালাক হলো একটি নিষ্ঠুর ও বিচ্ছেদের সবচেয়ে অপমানজনক পর্যায়। তালাকের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তিনি বলেছেন, ফোনে তিনটি শব্দ বলার মধ্য দিয়ে মুসলিম নারীদের জীবন ধ্বংস হতে দেয়া যায় না ভারতে। এখন সুপ্রিম কোর্ট কি রায় দেয় সেদিকে তাকিয়ে আছে বিএমএমএ। তবে এ সংস্থার সহ প্রতিষ্ঠাতা জাকিয়া সোমান ও নূরজাহান আশাবাদী এমন চর্চা নিষিদ্ধ হবে।
>>>মানবজমিন

No comments:

Post a Comment