Wednesday, February 1, 2017

পায়রা থেকে গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন হচ্ছে

২০১৯ সালে পায়রা বন্দর এলাকায় নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অপারেশনে যাবে। ওই বিদ্যুৎ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সঞ্চালন লাইনের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। সে জন্য পায়রা থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত ১৬০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। দেশীয় অভিজ্ঞ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি থাকতে প্রকল্পে সরকারি খাত থেকে ৩৪ কোটি ২১ লাখ টাকা পরামর্শকের পেছনে ব্যয়ে প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্প ব্যয়ের মাত্র সাড়ে ১০ শতাংশ বিদেশী সহায়তা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত কয়লা দিয়ে সরকার দেশের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। তারই অংশ হিসেবে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর এলাকায় নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যার প্রথম ইউনিট ২০১৯ সালের এপ্রিলে অপারেশনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের সাথে যুক্তি করতে ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ প্রয়োজন। তবে ওই ইউনিট অপারেশনে আসার ন্যূনতম ৩০ দিন আগে ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ সম্পন্ন করতে হবে। পটুয়াখালী থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত পরিকল্পনাধীন ১৬০ কিলোমিটার ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইনটি গোপালগঞ্জের ৪০০/১৩২ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের মাধ্যমে মঙ্গলা-আমিনবাজার ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইনের সাথে যুক্ত হবে। এতে গোপালগঞ্জের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। অবশিষ্ট বিদ্যুৎ আমিনবাজার ৪০০/২৩০/১৩২ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের মাধ্যমে ঢাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে। গোপালগঞ্জের সঞ্চালন লাইন করতে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৩২২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যার মধ্যে সরকারি অর্থায়ন হবে ৮২ দশমিক ৮২ শতাংশ।
প্রকল্প সহায়তা হলো মোট ব্যয়ের মাত্র ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সাধারণত বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক প্রস্তাবিত বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে জিওবি বা সরকারি অর্থের পরিমাণ থাকে মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশ। ৮০ শতাংশ থাকে বিদেশী সহায়তা। এ প্রকল্পে জিওবি অর্থের ওপর চাপ কমানোর জন্য বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ আরো বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নিতে কমিশন থেকে বলা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মাদারীপুর থেকে গোপালগঞ্জ পুরনো ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট ইন-আউট ৮ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ, মাদারীপুর থেকে ফরিদপুর ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট ১ কিলোমিটার ইন-আউট লাইন নির্মাণ এবং গোপালগঞ্জে ৪০০/১৩২ কেভি, ৩ গুণ ৩২৫ এমভি উপকেন্দ্র নির্মাণ। এ দিকে প্রকল্পে বড় ধরনের অর্থ ব্যয় করে দুইটি আবাসিক ভবন নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এ আবাসিক ভবনটিতে কোনো ধরনের কর্মকর্তা বা কর্মচারী বসবাস করবে তার কোনো ব্যাখ্যা প্রস্তাবনায় দেয়া হয়নি। পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে যে, প্রকল্পে ৩৪ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ অর্থ সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থায়ন থেকে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন এতে আপত্তি জানিয়ে বলেছে, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ অত্যন্ত অভিজ্ঞ কারিগরি প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও প্রস্তাবিত প্রকল্পে এত অধিক সংখ্যক পরামর্শক রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। নিতান্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরামর্শক রেখে এ খাতের ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য কমিশন থেকে সুপারিশ করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment