Wednesday, February 8, 2017

মানিকগঞ্জে দলবেঁধে আক্রমণে বেওয়ারিশ কুকুরেরা

মানিকগঞ্জের রাস্তাঘাটে বেওয়ারিশ কুকুরেরা দলবেঁধে আক্রমণ শুরু করেছে। তাদের আক্রমণে শিকার হয়েছেন অনেক মানুষ। আক্রান্ত হচ্ছে গরু-ছাগলও। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার প্রায় সব স্থানে দলবেঁধে ঘুরে বেড়ায় এসব ভয়ঙ্কর কুকুরের দল। স্কুলগামী ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে, পথচারী, কৃষক-শ্রমিক, সাধারণ মানুষ,
গরু-ছাগল কেউ রক্ষা পাচ্ছে না এসব কুকুরের আক্রমণ থেকে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাবে জেলায় বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার কুকুর রয়েছে। বেসরকারি হিসেবে সংখ্যাটা আরও বেশি। এসব কুকুরের প্রায় শতভাগই বেওয়ারিশ। জন্ম নিয়ন্ত্রণ না থাকা ও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে নিধন বন্ধ থাকায় এ সংখ্যা লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম বলেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে আমাদের পক্ষে আর কুকুর নিধন করা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (মহাখালী, ঢাকা) ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ২০১৫ সালে মানিকগঞ্জ জেলায় মোট কুৃকুরের সংখ্যা ছিল ২৭৩০০টি। ‘মাক্স ডক ভ্যাকসিন’ প্রকল্পের আওতায় মানিকগঞ্জ জেলায় ওই বছরের অক্টোবর মাসের ২২ তারিখ হতে ২৬ তারিখ পর্যন্ত ২০২৭৭৭টি কুকুরকে ২ বছর মেয়াদী ভ্যাকসিন দেয়া হয়। ভ্যাকসিন দেয়া কুকুরে কামড়ালেও জলাতঙ্ক রোগ হবে না। তার হিসাব মতেই ৬,৫২৩টি কুকুর ছিল ভ্যাকসিনের আওতার বাইরে।
কিন্তু খোদ স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন যে, ওই সময় জেলার মোট কুকুরের অর্ধেক কুকুরকেও ভ্যাকসিন দেয়া সম্ভব হয়নি। জানা যায়, জেলায় গড়ে প্রতি দিন প্রায় ১৫০ জন মানুষ কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের ১৫ ভাগের ১ ভাগ মানুষ মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে আসে ভ্যাকসিন নিতে। ২০১৬ সালে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন নিয়েছে ৩১৪৪ জন আর অন্যান্য প্রাণির কামড়ে আক্রান্ত হয়েছে ১৬১৬ জন, মোট ৪৭৬০ জন। কিন্তু সরকারি ভ্যাকসিন বরাদ্দ ছিল মাত্র ৯৯০টি। মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে সরকারি ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকার কারণে রোগীদের টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনে শুধু এখান থেকে পুশ করে দেয়া হয় বলে জানান নার্সিং অফিসার আনিছুর রহমান ভূইয়া। সরকারী ভ্যাকসিন না থাকা প্রসঙ্গে জেলা সিভিল সার্জন ডা. ইমরান আলী বলেন, গত মাসে আমি মাত্র ৫০টি সরকারি ভ্যাকসিন পেয়েছি অথচ চাহিদা ছিল ৫০০টি। আমরা সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন বার বার চাচ্ছি কিন্তু সবগুলো পাচ্ছি না। তিনি বলেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারনে কুকুর নিধন এখন বন্ধ। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে কুকুর হতে সর্তক থাকতে হবে। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন আগে পুটাইল ইউনিয়নের কাফাটিয়া গ্রামের মানিকের মায়ের মাঠে বেঁধে রাখা ছাগল খেয়ে ফেলেছে কুকুরের দলে। তিনি আরও বলেন, হাসলি গ্রামের তোমছের আলীর বাড়ির নিকট রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে কুকুরের ভয়ে। কুকুরের ভয়ে অনেক অভিভাবক বাচ্চাদের একা স্কুলে যেতে দিচ্ছে না। যে দিন বাবা-মা সাথে যেতে পারে না সেদিন বাচ্চাদের স্কুলে পাঠায় না। এ অবস্থায় অনেক এলাকায় শুধু কুকুরের ভয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, কুকুর অবশ্যই নিধন করতে হবে আর স্বাভাবিক জীবন-যাপনের জন্যে এটা এখন মানিকগঞ্জের গণদাবি। আর না হয় বিকল্প কোনো ব্যাবস্থা নিয়ে মানুষকে কুকুরের জিম্মি দশা থেকে মুক্ত করতে হবে। অপরদিকে গরু-ছাগলকে কুকুরে কামড়ালেও নেই কোনো সরকারি ভ্যাকসিন। কি পরিমাণ গৃহপালিত পশুকে কুকুরে কামড়ায় তার কোনো হিসাব নেই জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে। ইতিমধ্যে জেলার অনেক স্থানে ছাগল-ভেড়া খেয়ে ফেলার অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত মো: আব্বাস বলেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর জেলার বাসিন্দা হয়েও আমরা সামান্য কুকুরে কামড়ানোর ভ্যাকসিনটাও পাচ্ছি না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কুকুরের জীবনের মূল্য কি মানুষের জীবনের চেয়েও বেশি? মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের আর এম ও ডা. মো: লুৎফর রহমান বলেন, এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে সরকারি ভ্যাকসিনের সরবরাহ বাড়াতে হবে। কুকুরকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। কুকুরের জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

No comments:

Post a Comment