ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিব থেকে ফিলিস্তিনের পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেম শহরে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা থেকে পিছু হটেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্যাপক সমালোচনা ও হুশিয়ারির মুখে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফিলিস্তিনের দৈনিক আল-কুদস পত্রিকার খবর অনুসারে, ট্রাম্প ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে জেরুজালেমে নেয়া হবে না।
ইসরাইলের জেরুজালেম পোস্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের হাফিংটন পোস্ট এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘ইসরাইল হাইয়ুম’ পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে তিনি অনেক বেশি চিন্তা করছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি কোনো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। অবশ্যই অনেক বছর আগে থেকে দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার কথা বলা হচ্ছে কিন্তু কেউ তা করতে চাননি। আমি বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকভাবে ভাবছি এবং দেখি কী হয়।’ নির্বাচনী প্রচারনার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলআবিবে অবস্থিত ৬৪ বছরের পুরনো মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণায় ফিলিস্তিন ও এর প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তারা বলেছিল, এ ধরনের প্রস্তাব ফিলিস্তিনের শান্তি প্রস্তাবের সম্ভাবনাকে হত্যা করবে। মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়া হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। এমনটা হলে, কী পদক্ষেপ নেয়া হবে সে বিষয়ে জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহর সঙ্গেও আলোচনা করেন তিনি। ফিলিস্তিনের অধিকাংশ অধিবাসী পূর্ব জেরুজালেমকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করেন। এমনকি ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বে জেরুজালেমের স্ট্যাটাস খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য দেশগুলো জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে না। ইসরাইলে অন্য দেশগুলোর দূতাবাস তেলআবিবে অবস্থিত। তবে ১৯৬৭ সালে আরব যুদ্ধে জেরুজালেম দখলের পরও সেটা ইসরাইলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে না কোনো দেশই। জাতিসংঘও এ দখলকে স্বীকৃতি দেয়নি। ট্রাম্পের এ আভাস তার মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। এরই মধ্যে তিনি বলেছেন, ইসরাইলের বসতি স্থাপন সম্প্রসারণ করলে শান্তি প্রক্রিয়ার পক্ষে তা ভালো হবে বলে বিশ্বাস করেন না।

No comments:
Post a Comment