Sunday, February 12, 2017

ইরানে ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পরিণত হলো ট্রাম্পবিরোধী র‌্যালিতে

ইরানে ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যেন পরিণত হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পবিরোধী র‌্যালিতে। পুরো অনুষ্ঠানে স্লোগান দেয়া হয়েছে- ডেথ টু আমেরিকা বা আমেরিকা নিপাত যাক। আমেরিকার সত্যিকার মুখোশ খুলে দিয়েছেন ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর বেরিয়েছে যে, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ‘অন নোটিশ’ হুমকি দেয়ার ফলে ইরানের লাখ লাখ মানুষ নিজ দেশের ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ঐতিহাসিক ইসলামী বিপ্লব সাধিত হয়। সেই বিপ্লবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রপন্থি রেজা শাহ পাহলভি শাসকের পতন হয়। তারই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শত শত সেনা ও পুলিশ সদস্য মার্চ করেন তেহরানের আজাদি স্কয়ার বা স্বাধীনতা চত্বরে। এ সময় তারা যে ব্যানার বহন করছিলেন তাতে লেখা ছিল ‘আমেরিকা নিপাত যাক’। কারো কারো হাতে ছিল ডনাল্ড ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা। অন্যদিকে ইরানের রণসংগীত পরিবেশন করে সেনা, পুলিশের একটি ব্যান্ড। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হয়, তেহরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের রাস্তায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ছবির ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে মানুষ। এসব মানুষের হাতে ইরানের পতাকা ও ব্যানার। তাতে লেখা- থ্যাঙ্কস মিস্টার ট্রাম্প ফর শোয়িং দ্য রিয়েল ফেস অব আমেরিকা। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের আসল চেহারা দেখানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জনাব ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে যে হুমকি দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে ইরানের প্রধান নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী’কে উদ্ধৃত করে ইরানের একজন যুবক বক্তব্য রাখেন। তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, আমেরিকা ও ট্রাম্প কিছুই করতে পারবে না। আমাদের নেতাদের জন্য আমাদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত আমরা। উল্লেখ্য, গত ২৭শে জানুয়ারি ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম প্রধান সাতটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এর মধ্যে রয়েছে ইরান। এর দু’দিন পরেই ২৯শে জানুয়ারি ইরান তার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়। এর ফলে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে তিনি ‘অন নোটিশ’ নিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপ করেন। তবে তাতে ভীত নয় ইরান। তারা জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম বন্ধ করবে না। ফলে ইসলামী বিপ্লবের বার্ষিকীতে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি সহ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতারা ইরানিদের প্রতি আহ্বান জানান শুক্রবারের র‌্যালিতে যোগ দিতে। এর মধ্য দিয়ে তাদেরকে তাদের সুপ্রিম লিডার ও ইসলামী  বিপ্লবের প্রতি তাদের বন্ধন অটুট এটা দেখানোর আহ্বান জানান। এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডেন্ট রুহানি। এ সময় তিনি ইরানের বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ঐক্যের। তিনি আজাদি স্কয়ারে বক্তব্যে বলেন, এ অঞ্চলের কিছু অদক্ষ ব্যক্তি ও যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়ে যাচ্ছে ইরানকে। তাদের জানা উচিত, ইরানে কখনো হুমকি কাজ করে নি। তিনি বলেন, আমার জাতি চোখ-মুখ খোলা রাখে। এসব হুমকির জন্য অনুশোচনা করতে হবে। যারা এমন হুমকি দেন তাদেরকে ইরান ও ইরানের মানুষকে সম্মান করা উচিত। যুদ্ধবাজদের যেকোনো রকম নীতি আমরা শক্তভাবে মোকাবিলা করবো। উল্লেখ্য, ওই র‌্যালি মূলত রূপ ধারণ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিরোধিতায়। র‌্যালিতে যোগ দেয়া লোকজনের অনেকের হাতে দেখা গেছে ডনাল্ড ট্রাম্পের ছবি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের ছবি। এ তিন নেতার ছবি একত্রিত করে তার ক্যাপশনে তাদেরকে ‘ডেথ টু দ্য ডেভিল ট্রায়াঙ্গেল’ আখ্যায়িত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, এই যে আজাদী স্কয়ারে মানুষের ঢল এটাই যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নেতাদের মিথ্যে অভিযোগের কড়া জবাব। টেলিভিশনে বলা হয়েছে, এদিন কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল ওই আজাদী স্কয়ারে। মুসলিম নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য র‌্যালি থেকে মার্কিনিদের প্রতি ধন্যবাদ জানানো হয়। কোনো কোনো ব্যানারে লেখা দেখা যায়- ‘মুসলিমদের সমর্থন করার জন্য মার্কিনিদের প্রতি ধন্যবাদ।’
>>>মানবজমিন

No comments:

Post a Comment