যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে আরেক
সেনা কর্মকর্তাকে বেছে নিয়েছেন। সোমবার ওই পদের জন্য সামরিক চিন্তাবিদ
হিসেবে পরিচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারবার্ট রেমন্ড ম্যাকমাস্টারের (এইচআর
ম্যাকামাস্টার) নাম ঘোষণা করেছেন তিনি। ম্যাকমাস্টার পদত্যাগকারী উপদেষ্টা
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইকেল ফ্লিনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। খবর বিবিসি ও
রয়টার্সের। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট
ট্রাম্প বলেন, সামরিক বাহিনীতে সবাই তাকে খুব শ্রদ্ধা করে এবং তাকে আমাদের
মাঝে পেয়ে খুব সম্মানিতবোধ করছি। তিনি অত্যন্ত মেধাবী এবং তার অভিজ্ঞতাও
অসাধারণ। প্রেসিডেন্টের এই নিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের অনুমোদন
লাগবে না। আগের উপদেষ্টা ফ্লিন রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে
নিয়োগ পাওয়ার ২৪ দিনের মাথায় পদ্যতাগ করেন। ফ্লিনের পদত্যাগের পর নিরাপত্তা
উপদেষ্টা হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ ছিল আরেক সামরিক কর্মকর্তা ভাইস
অ্যাডমিরাল রবার্ট হারওয়ার্ডকে,
কিন্তু ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে ট্রাম্পের
প্রস্তাব গ্রহণে সম্মত হননি হারওয়ার্ড। নতুন নিয়োগ পাওয়া ম্যাকমাস্টারকে
দক্ষ সামরিক চিন্তাবিদ ও যুদ্ধকৌশলবিদ হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি স্পষ্টভাষী
হিসেবেও পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে তিনি ইরাক ও
আফগানিস্তানে দায়িত্বপালন করেছেন। নিরাপত্তা উপদেষ্টা স্বাধীন পরামর্শদাতা
হিসেবে প্রেসিডেন্টকে জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতির বিষয়ে পরামর্শ
দিয়ে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের শীর্ষ পদগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
ম্যাকমাস্টারের মতো স্পষ্টভাষী সামরিক কর্মকর্তাকে ট্রাম্প নিরাপত্তা
উপদেষ্টা হিসেবে বেছে নেয়ায় অনেক বিশ্লেষক বিস্মিত হয়েছেন। ঊর্ধ্বতন
কর্তৃপক্ষের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ম্যাকমাস্টার হোয়াইট হাউসের বর্তমান
প্রশাসনের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিবেন তা ভেবে অনেক বিশ্লেষক বিস্মিতবোধ
করছেন। কারণ ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা সমালোচনা শুনতে নারাজ। মস্কোর সঙ্গে
তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে বলে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি বরং রাশিয়ার কিছু
সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ কী হতে পারে, সম্প্রতি
সেই বিষয়টি পর্যালোচনার দায়িত্ব ম্যাকমাস্টারকে দেয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

No comments:
Post a Comment