প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা বলেছেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি
ব্যবহারের কারণে সুন্দরবনের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না। ওয়ার্ল্ড
ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনেও এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির
নূরুল ইসলাম মিলনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা আরো
বলেন, ডব্লিউইএফ'র নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক ক্লাউস শোয়াবের বিশেষ
আমন্ত্রণে গত ১৭ থেকে ২০ জানুয়ারি ডাভোসে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির ৪৭তম বার্ষিক
সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। এ সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও
ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি বলেন, এ সম্মেলনে বিশ্বের ৬০টি দেশের রাষ্ট্র বা সরকার
প্রধানসহ জাতিসংঘের নবনিযুক্ত মহাসচিব ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার
প্রধানগণ অংশগ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণের অংশগ্রহণের
পরিসংখ্যান বিবেচনা করলে এ সম্মেলনের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রধানমন্ত্রী বলেন,
সম্মেলনে বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, উদার, গণতান্ত্রিক ও
দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে আরও একবার তুলে ধরার সুযোগ হয়েছে।
বিশ্বশান্তি,
নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে উচ্চতর সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। তিনি বলেন,
পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষ বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের
বাংলাদেশে বিনিয়োগে যথেষ্ট আগ্রহী করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,
সম্মেলনে ‘শেপিং এ নিউ ওয়াটার ইকোনমিক’ সেশনে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা,
কর্মক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিল্প কারখানা গুলিতে যথাযথ
পরিবেশগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতা ও গৃহীত পদক্ষেপের
বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। শিল্প কারখানার ক্ষেত্রে ‘গো গ্রিন’ নীতি অনুসরণ
করছে মর্মে বিশ্ববাসীকে অবহিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়ার্ল্ডস
আনডার ওয়াটার’ সেশনে জনগণের মাঝে পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে এবং আন্তঃ
সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পানির সুষ্ঠু ও সুষম ব্যবস্থাপনা রাষ্ট্রীয়
নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। তিনি বলেন, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে
বাংলাদেশের সুমদ্রসীমা নির্ধারণ এবং বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সম্পাদিত গঙ্গা
পানি চুক্তির কথা বিশেষভাবে সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। শেখ হাসিনা বলেন,
হারনেসিং রিজিওনাল কো-অপারেশন ইন সাউথ এশিয়া’ সেশনে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে
সার্কের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সংস্থাকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার পক্ষে
মত প্রকাশ করা হয়। তিনি বলেন, সম্মেলনে ‘লিডিং দি ফাইট এগেইনস্ট ক্লাইমেট
চেঞ্জ’ সেশনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টি বাংলাদেশের
মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বাংলাদেশকে
‘এ টেল অব ক্লাইমেট গ্রাউন্ড জিরো’ বলে উল্লেখ করা হয়। শেখ হাসিনা বলেন,
ডাভোস সম্মেলনের বিভিন্ন প্যানেল ও সেশন আলোচনায় অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি
ডব্লিউইএফ’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি মিলিত
হন। এ বৈঠকে অধ্যাপক ক্লাউস শোয়াব আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব
সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ সরকারের গতিশীল নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
সূত্র: বাসস

No comments:
Post a Comment