পুলিশ
মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক বলেছেন, স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু
হত্যায় সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে অবশ্যই
গ্রেফতার করা হবে। তবে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। মুসাকে
গ্রেফতার করা গেলে স্ত্রী হত্যায় বাবুল আক্তারের ভূমিকা কী ছিল তা পরিষ্কার
হতো। বুধবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও
পুলিশ সমাবেশে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, গাইবান্ধার
আওয়ামী লীগের এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন খুনের মূল পরিকল্পনাকারী সাবেক এমপি
কর্নেল (অব.) আবদুল কাদের খান। নিজের পথ পরিষ্কার করতে এবং পরবর্তী সময়ে
এমপি হওয়ার ইচ্ছে থেকেই কাদের খান নিজেই হত্যা পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন
করে।
মিতু হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে আইজিপি জানান, হত্যাকারী মুসাকে
এখনও খুঁজছি। তাকে ধরার জন্য পুলিশ কমিশনার পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা
করেছেন। মুসাকে ধরতে পারলে অনেক রহস্য উদ্ঘাটন হবে। তখন বাবুল আক্তারের
ভূমিকা কি তা পরিষ্কার হবে। মুসাকে একটা নির্দিষ্ট টাইম পর্যন্ত গ্রেফতারের
চেষ্টা করব। পাওয়া না গেলে মুসাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে মামলার চার্জশিট দেয়া
হবে। ঝিনাইদহে নিহত এসআই আকরাম হত্যার ঘটনায় বাবুলকে দায়ী করার বিষয়ে জানতে
চাইলে আইজিপি বলেন, এরকম কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। গণমাধ্যমে এসেছে।
যদি অভিযোগ সত্য হয়, তখন বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত
বছরের ৫ জুন চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা
হয় বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে। এমপি লিটন হত্যাকাণ্ড
প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, দেড় মাসের তদন্তে খুনি ও খুনের পরিকল্পনাকারীকে
শনাক্ত করা হয়েছে। আবদুল কাদের যে খুনি তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। আমরা
যাদের শনাক্ত করেছি তারাই খুন করেছে এবং খুনের পরিকল্পনা করেছে। তিনজন
কিলার মোটরসাইকেলে করে তার (লিটনের) বাড়িতে গিয়ে তাকে গুলি করে। সে
মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়েছে এবং তিনজন কিলারকে আমরা গ্রেফতার করেছি। দু’জন
আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। শতভাগ পেশাদারিত্ব
নিয়ে পুলিশ একেবারে নিরপেক্ষভাবে এ মামলার তদন্ত করেছে এবং ঘটনার রহস্য
উদ্ঘাটন করেছে। পুুলিশ সমাবেশ উপলক্ষে বুধবার রাতে দামপাড়া পুলিশ লাইনে এক
মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

No comments:
Post a Comment